Image description

টুডে ডেস্ক 

গত  ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ফিউচার ইনস্টিটিউট আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পলিসি রোডম্যাপ Vision for a Better Bangladesh প্রকাশ করেছে। ওয়েস্টমিনস্টারে অবস্থিত ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (ODI)-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকাশনার উদ্বোধন করা হয়। ৩০২ পৃষ্ঠার এই প্রকাশনাটি ছয়টি দেশে অবস্থানরত বিশেরও বেশি বিশেষজ্ঞের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত। এতে বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক পলিসি কাঠামো উপস্থাপন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য কৌশলগত শাসনব্যবস্থা জোরদার করা এবং কার্যকর পলিসি প্রণয়নকে সহায়তা করা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। Vision for a Better Bangladesh গ্রন্থে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নেতৃত্বকে তাৎক্ষণিক আবেগ বা প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে সুস্পষ্ট ভিশন, শক্তিশালী প্রমাণ এবং দৃঢ় মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ফিউচার ইনস্টিটিউটের বোর্ড অব অ্যাডভাইজার্সের ভাইস-চেয়ার ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিজ। মূল উপস্থাপনাটি প্রদান করেন ফিউচার ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর রাইয়ান আজমী। তিনি প্রকল্পটির পেছনের প্রেরণা ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। পলিসি প্রণয়নে প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত সরকারগুলো প্রায়ই সুস্পষ্ট, বিস্তারিত ও গবেষণাভিত্তিক কৌশল ছাড়াই দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর ফলে সংস্কার কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটে এবং এক ধরনের পলিসি শূন্যতা তৈরি হয়, যা সরকারের বাইরের বিভিন্ন পক্ষ দ্বারা পূরণ হয়। এতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা দুর্বল হয় এবং সরকারি পলিসি জনগণের মূল্যবোধ ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এই পলিসি রোডম্যাপটি পাঁচটি প্রধান থিমের আওতায় সতেরটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রণীত হয়েছে:
সততা ও আস্থার পুনর্গঠন
জাতীয় প্রবৃদ্ধির কৌশল
কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব জোরদার
সহনশীল সমাজ গঠনে অবকাঠামো উন্নয়ন
সংস্কৃতি, অন্তর্ভুক্তি ও মিডিয়া
এতে দুর্নীতি নির্মূল, সরকারি খাত সংস্কার, অর্থনৈতিক পলিসি, জনসংখ্যা পরিবর্তন, প্রযুক্তি, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা পলিসি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সংস্কার, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ, পরিবহন, ডিজিটাল রূপান্তর, সংস্কৃতি, নারীর অধিকার এবং মিডিয়া পলিসিসহ মোট সতেরটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর বিস্তারিত পলিসি বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সুচিন্তিত সমন্বয় করা হয়েছে।


প্রকাশনাটির প্রতিক্রিয়ায় উপস্থিত বিশিষ্ট বক্তারা ভবিষ্যতমুখী ও প্রমাণনির্ভর পদ্ধতির গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
ওডিআই-এর ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং এলএসই গ্র্যানথাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং প্রফেসর প্রফেসর হ্যান্স-পিটার ল্যাংকেস প্রকাশনাটিকে “একটি বাস্তবধর্মী ও অনুপ্রেরণাদায়ক ভিশন” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জগুলো একযোগে বিভিন্ন খাতে পরিপূরক পলিসি প্রতিক্রিয়া দাবি করে। উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতার ভূমিকা, জ্বালানি খাতে সম্ভাবনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।


ফিউচার ইনস্টিটিউটের বোর্ড অব অ্যাডভাইজার্সের সদস্য এবং আঙ্কারাভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক থিংকিং-এর সাবেক সভাপতি প্রফেসর ইয়াসিন আকতায় সমাজ রূপান্তরে প্রেরণা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি কঠোর গবেষণার পাশাপাশি ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গির সংযোজনের জন্য পলিসিগুলোর প্রশংসা করেন এবং বলেন, নৈতিক ভিত্তি ছাড়া সুশাসন সম্ভব নয়। তিনি ২০০০-এর দশকের শুরুতে তুরস্কে দুর্নীতি হ্রাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, বরং সম্পদ হিসেবে দেখার গুরুত্বের কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি তুরস্কের নিম্ন জন্মহারের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যাগত গতিপথের তুলনা করেন।


পরবর্তী আলোচনায় বিভিন্ন থিংক ট্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, জ্বালানি ও পরিবহন খাতের প্রতিবন্ধকতা, পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
Vision for a Better Bangladesh এবং এর উদ্বোধনী উপস্থাপনাটি ফিউচার ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে নিচে দেওয়া ডাউনলোড লিংকের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। মিডিয়া বা অন্যান্য অনুসন্ধান, কিংবা কপি ক্রয়ের জন্য অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করুন: [email protected]