Image description
♦ মাইকিং পোস্টার লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি প্রচারে আছে অনেক ভিন্নতা ♦ তরুণ ও নারী ভোটার আকৃষ্ট করতে বিশেষ কৌশল

নির্বাচনি উত্তাপ এখন তুঙ্গে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে সর্বোচ্চ ভোট টানার চেষ্টায় ব্যস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকেরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি, পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়েও গিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সবচেয়ে বেশি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে চায়ের দোকানে। টি-স্টলগুলো যেন পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থীরা যাচ্ছেন, ভোটারদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক চলছে তুমুলভাবে। ‘চায়ের কাপে ভোটের তাপ’ খুব ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে।

শহর কিংবা গ্রাম- অলিগলি যেন পরিণত হয়েছে প্রচারের খোলা মঞ্চে। সকাল থেকেই প্রার্থীদের গাড়িবহর কিংবা সমর্থকদের লম্বা মিছিল। মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন তারা। অনেক প্রার্থী নিজেই সাধারণ মানুষের বাড়ির উঠানে বসে মনোযোগ দিয়ে শুনছেন সুখ-দুঃখ, উন্নয়ন ও সমস্যার কথা। কেউ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের, কেউ আবার কর্মসংস্থান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। হাটবাজারে ভোটের প্রচার তুঙ্গে। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রার্থীরা হাত মেলাচ্ছেন, হাসিমুখে কুশল বিনিময় করছেন, কেউ কেউ ছোট সমাবেশ করে বক্তব্যও দিচ্ছেন। ধর্মীয় উপাসনালয়কেন্দ্রিক প্রচারও চোখে পড়ছে। নামাজ, প্রার্থনা বা উপাসনা শেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন প্রার্থীরা। কেউ কেউ নৈতিকতা, শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তবে এ ক্ষেত্রে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের প্রচারে ভিন্ন মাত্রাও যোগ করেছেন কিছু প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ প্রচার, ছোট ভিডিও বার্তা, এমনকি গ্রাফিক্স ও গান ব্যবহার করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ সাইকেল বা মোটরসাইকেল র?্যালি, পথনাটক কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরছেন।

তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছাতেও বাড়তি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। উঠান বৈঠক, নারী সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। নারী কর্মীরাও ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়ার কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এতে নির্বাচনি প্রচারে অংশগ্রহণের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, শেষ সময়ের এই জোরালো প্রচার ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারদের মন জয় করতে পারলে ফল বদলে যেতে পারে। সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচার এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই প্রার্থী ও কর্মীরা চেষ্টা করছেন প্রতিটি ভোটারের দরজায় পৌঁছাতে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ আর সেই উত্তাপেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ভোট চান তাঁর কন্যা জাইমা রহমান। গতকাল দুপুরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে তাঁকে ভোট চাইতে দেখা গেছে। গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটে ফুটপাত, পথচারীর কাছে তারেক রহমানের ছবি সংবলিত লিফলেট তুলে দেন জাইমা। বিপণিবিতানেও ভোট চাইতে দেখা গেছে তাঁকে। গুলশান দুই নম্বরে এসে তিনি প্রচার শেষ করেন। লিফলেট বিতরণের সময় জাইমা বলেন, ‘আমি জাইমা রহমান, তারেক রহমানের কন্যা। আমার আব্বা ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী, তাঁর পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। এটি (লিফলেট) নিন। দোয়া করবেন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমন একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, তাদের টার্গেট ভোট কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি। এতে করে নিজ নিজ পাল্লা ভারী হবে এমনটাই মনে করছেন তারা। নাটোর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিগত ১৭ বছর দেশের জনগণ ভোট দিতে পারেননি। এখন দেশবাসী মুখিয়ে আছেন ভোট দিতে। ১২ তারিখে দেশে ভোট উৎসব হবে। আমার নির্বাচনি এলাকায় জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা আমাকে বলেছেন, সকাল থেকে লাইন ধরে ভোট দেবেন। ঢাকা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। আবার বিনাভোটের সংস্কৃতিও দেশবাসী দেখেছে। নাগরিক অধিকার প্রয়োগের এটাই সুবর্ণ সুযোগ। নির্বাচনি প্রচারে শুরু থেকে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। ভোটাররাও আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা ভোট কেন্দ্রে যাবেন।’ ঢাকা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর আবদুস সবুর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমি প্রচারে শুরু থেকেই ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তাঁরা আশ্বস্তও করছেন। আশা করছি, আমার আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি থাকবে এবং এই নির্বাচনে লাঙ্গলের জয়জয়কার হবে।