দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দিন যতই যাচ্ছে নির্বাচনি মাঠ ততই উত্তপ্ত। বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ঘটছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও। নির্বাচনি আচরণবিধি থেকে শুরু করে ভোটের যেকোনো অনিয়ম রোধে মাঠে থাকছেন ১৭০০-এর বেশি ম্যাজিস্ট্রেট। এর মধ্যে আজ থেকে মাঠে থাকবেন ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আর মঙ্গলবার থেকে ৬৫৭ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় সশস্ত্র বাহিনীও মাঠে আছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে ও ভোটের অনিয়ম দেখলে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা করবেন।
গতকাল প্রশাসন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যোগদান করেছেন। গত রাতেই অনেক জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিং দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আজ জেলার ডিসিরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপজেলায় দায়িত্ব বণ্টন করে দেবেন। পরে উপজেলায় তদারকি কার্যক্রমে চলে যাবেন নির্বাহী হাকিমরা। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মরত ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নির্বাচনি আচরণবিধি দেখার পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করবেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আজ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর ৫ ধারা মোতাবেক এ আইনের তফসিলভুক্ত আইনসমূহে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পেয়েছেন কর্মকর্তারা। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি (পাঁচ দিন) নির্বাচনি অপরাধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ মনোনয়ন দিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাঠায়। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় আইন মন্ত্রণালয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সংঘটিত নির্বাচনি অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মনোনীত ম্যাজিস্ট্রেটরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সংঘটিত অপরাধে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
নির্বাহী ও জুডিশিয়াল মিলে ১৭০৮ জন ম্যাজিস্ট্রেটের বাইরেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া আছে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অধীন অপরাধগুলো আমলে নিতে পারবেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। সাবেক সচিব এ কে এম আউয়াল মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এবার প্রচুর সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী আছে। নির্বাচনটা ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছি। নির্বাচনের বিষয়ে জেলা ও উপজেলার মানুষ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের চেয়ে ডিসি, এসপি, ইউএন, ওসির দিকে বেশি তাকিয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষ আস্থার সঙ্গে বলেন, প্রশাসন চাইলে ভালো ভোট হবে, প্রশাসন না চাইলে হবে না। প্রশাসন বলতে তারা ডিসি-এসপি এবং ইউএনও-ওসিকে বোঝান। তবে সরকারের সাপোর্ট না থাকলে ডিসি-ইউএনও পারবেন না। এবার তো সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সাপোর্ট রয়েছে। এ ছাড়া মাঠে কাজ করা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কিন্তু ডিসিই নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। ফলে সুষ্ঠু ভোটের জন্য সবার সদিচ্ছা যথেষ্ট।