Mirza Galib (মির্জা গালিব)
এক,
বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলেছে। তবে সনদের সবকিছু না, যেই অংশে ঐক্যমত্য হইছে, শুধু সেইটুকু। যেমন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিএনপি পিআর পদ্ধতি করবে না; বরং নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন করবে। উচ্চ কক্ষে পিআর থাকলে একটা সম্ভাবনা থাকে যে, কোন দল সরকার গঠন করলেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। বরং অন্যান্য দলের সাথে তার আলাপ আলোচনা করতে হবে। কিন্তু, নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে উচ্চ কক্ষ বণ্টন হইলে উচ্চকক্ষ আলাদা করে কোন চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্স তৈরি করবে না।
দুই,
জুলাই সনদে যে সকল সংস্কার প্রস্তাব নেয়া হইছে, তার মধ্যে দুইটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক, উচ্চ কক্ষে পিআর, যাতে করে সংবিধান সংশোধন করতে হলে, সরকারি দল অন্যান্য দলের সাথে আলাপ আলোচনা করতে বাধ্য হয়। দুই, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদ যেমন নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পিএসসি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের আলাপ আলোচনা করে একমত হইতে হবে। বিএনপির ইশতিহারে এই দুইটা জিনিসই মিসিং। উচ্চকক্ষে তারা নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে আসন বরাদ্দ করবে। নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু জুলাই সনদ অনুসারে তারা আইন প্রণয়ন করবে। কিন্তু, অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা তাদের মত করে আইন প্রণয়ন করবে। কারণ জুলাই সনদের এই জায়গাতে তাদের আগে থেকে নোট অফ ডিসেন্ট দেয়া আছে।
তিন,
তার মানে দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে পরিবর্তন জুলাইয়ের পরে আমরা চাইতেছি, বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই নাই। একটা কাঠামোগত পরিবর্তন তারা চায় না। বিএনপি মনে করে, সিস্টেমে কোন প্রব্লেম নাই। প্রব্লেম ছিল শুধু ব্যক্তি হাসিনার। হাসিনার পরিবর্তে তারা নিজেরা ক্ষমতায় আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সিস্টেমকে খুব বেশি পরিবর্তন না করলেও হবে।
চার,
কিন্তু সিস্টেমের পরিবর্তন না করলে বড়জোর যেইটা হবে, সেইটা হইল বিএনপি শুধু "কিছুটা ভালো আওয়ামী লীগ" হবে। এর বেশি কিছু না। বরং সময়ের সাথে সাথে তাদেরও খারাপের দিকে পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা বাড়বে। বিএনপির এই রাজনৈতিক পজিশন জনস্বার্থবিরোধী, জুলাইয়ের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বিরোধী, এবং বাংলাদেশের রাজনীতির একটা আমূল পরিবর্তনের বিরোধী।
পাঁচ,
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, আমাদের তরুণ ভাই-বোনদের রক্তের মধ্য দিয়ে, আমাদের দেয়ালে দেয়ালে যে বিপ্লবের আগমনী গান লেখা হইছে, বিএনপি এই লেখা পড়তেও পারতেছে না, বুঝতেও পারতেছে না। বিএনপি যদি স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি না দেয় যে, "হ্যাঁ" ভোট জিতলে নিজেদের নোট অফ ডিসেন্ট অতিক্রম করে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, তাহলে বিএনপির রাজনীতির বিপক্ষে দাঁড়ানোই জুলাইয়ের সত্যিকারের স্পিরিট। জুলাইয়ের শহীদদের শপথ, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটা সত্যিকারের গুণগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাদে, আমাদের আর কোন রাজনীতি নাই সামনের দিনে। এই আকাঙ্ক্ষার সাথে যেই রাজনীতির বিরোধিতা থাকবে, তার সাথে আমাদের বিরোধিতা থাকবে। এইটা এই প্রজন্মের "নো কম্প্রোমাইস জোন"। রেড লাইন।