সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদন ফি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের ১৮ নম্বর দফার আওতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতসংক্রান্ত ঘোষণায় এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে জামায়াতে ইসলামী জানায়, সরকারি চাকরির আবেদনে ফি নেওয়ার ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হন। এ বৈষম্য দূর করতে আবেদন ফি বাতিল করা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ করা হবে।
এছাড়া বেকারত্ব দূর করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রধান কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে দেশের প্রতিটি জেলায় হিউম্যান স্কিল ডেভেলপমেন্ট জোন (SDZ) গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
ইশতেহারে নতুন শিল্প স্থাপন, অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ এবং দেশীয় শিল্প বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং, গিগ ইকোনমি ও অনলাইনভিত্তিক কাজের সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে দলটি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং অধিকার রক্ষায় শ্রম আইন সংস্কারের কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী আরও জানায়, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে শ্রমখাতে স্থিতিশীলতা আনা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে সহায়ক হিসেবে একটি জাতীয় কর্মসংস্থান ডেটাবেস ও ওয়েবভিত্তিক ড্যাশবোর্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দলটির মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক শ্রমবাজার গড়ে উঠবে।