Image description

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার বিষয়ে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এটি তদন্তের বিষয়। কেউ ক্ষুব্ধ হলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি বা অ্যাডজুডিকেশন কমিটিতে অভিযোগ করতে পারেন। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয়, কোনো প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তবে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনি বলেন, ‘এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে দেখতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।’

নির্বাচনি শৃঙ্খলা রক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, সারাদেশে প্রায় ৩০০ বিচারকের নেতৃত্বে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। মাঠ পর্যায়ে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্ট। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বহুক্ষেত্রে এরই মধ্যে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, অভিযোগ শুধু প্রার্থীর পক্ষ থেকেই নয়–গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবর বা অন্য কোনো সূত্র থেকেও কমিটি তা আমলে নিতে পারে। তদন্তের পর প্রতিবেদন ও সুপারিশ কমিশনের কাছে যাবে, এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যপ্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের এ ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামান ক্যান্টনমেন্টে গানম্যান নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা তাকে আটকে দেন। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন ব্যক্তি তখন সেনাসদস্যদের জানান, খালিদুজ্জামান ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী। এসময় নিরাপত্তার স্বার্থে গানম্যান বা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য তাকে অনুরোধ করেন সেনাসদস্যরা।

 

কিন্তু সেই অনুরোধে কর্ণপাত না করে উত্তেজিত হয়ে খালিদুজ্জামান সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারেক জিয়ার ক্ষেত্রে তো আপনারা রাস্তা পরিষ্কার করছেন, আমরা কেন পারবো না?’ সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘আপনারা দেশটাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিস্বার্থে সরকার ও প্রশাসনকে বিতর্কিত করছেন।’

একপর্যায়ে দাঁড়িপাল্লার এ প্রার্থী সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলতে চান এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন খালিদুজ্জামান।