কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টেকসই হতে পারে না—এই দর্শনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা নীতি তুলে ধরেছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা ও আধুনিক যুদ্ধ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) একটি হোটেলে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহার অনুযায়ী, জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে দেশের সকল প্রতিরক্ষা অংশীজনের সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হবে। এই নীতির আলোকে বিদ্যমান ভিশন ২০৩০ আধুনিকায়ন করে ভিশন ২০৪০ নামে একটি নতুন সামরিক ডকট্রিন তৈরি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জন, দেশীয় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং কৌশলগত আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গবেষণা ও সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
জামায়াতের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশে প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—২০৪০ সালের মধ্যে দেশের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশেই উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা।
রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধুনিকীকরণ, সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে ধাপে ধাপে সেনাসদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তরুণ সমাজকে শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জন্য ৬ থেকে ১২ মাসের স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া সীমান্তে মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ ও অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের মতে, এই প্রতিরক্ষা নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, নিরাপদ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।