Image description

 আমরা কোনো পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত সরকার দেখতে চাই না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা বারবার এ দেশের মানুষের অর্থ লুটপাট করেছে। গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখছি, একটি দল সেই মজলুমের ঘাড়ে চড়ে বসেছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজার ছেলে রাজা—রাজনীতির এই ধারা ইনশাআল্লাহ পরিবর্তন করে দেব। আমরা চাই কৃষকের ঘর থেকেও আগামী দিনের দেশের প্রধান উঠে আসুক। তারাই বুঝবে কৃষকের সন্তানেরা কীভাবে মানুষ হয়ে উঠেছে। একটি দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়েছে।

তারা জিতলে আগে তাদের ঋণ শোধ করাবে।

 

বিগত ৫৪ বছরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুই ধরনের উন্নয়ন হয়েছে। জনগণের উন্নয়ন করতে গিয়ে রডের বদলে বাঁশ দেওয়া হয়েছে, সিমেন্টের বদলে মাটি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নেতাদের শ্বশুরবাড়ির সম্পদ হু হু করে বেড়েছে।

আমরা নিজেদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন করব না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের উন্নয়ন করব।

 

গাজীপুরকে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে না আছে জানের নিরাপত্তা, না আছে শিল্পের নিরাপত্তা। ইনশাআল্লাহ এই এলাকাকে প্রকৃত শিল্প এলাকার মতো গড়ে তোলা হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সম্মান দেওয়া হয় না, বিশেষ করে মায়েদের। সব কারখানায় মায়েদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হবে।

 

যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, যুবকরা কেউ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চায়নি, সবাই কাজ চেয়েছে। আমরা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই। সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রত্যেক যুবক-যুবতীর হাতে কাজ তুলে দেব। তাদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করব।

নারীর ওপর সহিংসতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, যারা মায়ের ওপর হাত তুলতে পারে, তারা মানুষ হতে পারে না। আর যদি কোনো মায়ের গায়ে হাত ওঠে, তাহলে সন্তানদের হাত আগুন হয়ে যাবে। মায়ের সম্মান রাখতে আমরা প্রয়োজনে জীবন দেব।

সমালোচকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, এখন আমার পেছনে লেগেছেন। আমি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করি না। আমি আমার বিবেক নিয়ে চলি। তোমরা পেছনে লেগে থাকো, ওগুলোর উত্তর দেওয়ার সময় আমার নেই।