Image description

ভবিষ্যতে ভরণপোষণ ও বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১১ বছরের এক শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নিয়েছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান। তবে সেই প্রতিশ্রুতির আড়ালে শিশুটির ওপর চলত ভয়াবহ ও অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ড. সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন। এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদেরও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা একজন হোটেল কর্মচারী। আর্থিক অভাবের কারণে ২০২৫ সালের জুন মাসে তিনি তার একমাত্র কন্যাকে সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজে দেন। নিয়োগের সময় সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তারা শিশুটির অভিভাবকের দায়িত্ব নেবেন এবং ভবিষ্যতে তার বিয়ের খরচ বহন করবেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে শিশুটির সঙ্গে তার পরিবারকে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, প্রথমদিকে গোলাম মোস্তফা নিয়মিত মেয়ের সঙ্গে দেখা করলেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিথী ফোন করে জানায় যে, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে বাবার কাছে হস্তান্তর করা হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও দগদগে পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। সে স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। আঘাতের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি।

পরবর্তীতে শিশুটিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাকালে শিশুটি জানায়, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে বিথী, শফিকুর রহমান এবং আরও দুইজন কাজের মহিলা বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করে এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়।

এ ঘটনায় ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

সহিংসতার শিকার শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী এনডিসির পক্ষ থেকে আহত শিশুটির চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।