Image description
 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিলাম ছাড়াই দুই যুগ আগের একটি পুরোনো ব্রিজ ভেঙে অন্তত ৩০ হাজার ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ব্রিজটি ভাঙার ফলে যাতায়াত নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভেলার বাজার-দক্ষিণ রাজিবপুর-রাজনীতির বাজার রাস্তায় এই সেতুটি তৈরি করা হয়। এই পথ দিয়ে দিনরাত চলাচল করেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প কোনো পথ না থাকায় চলাচল করতো রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশাসহ নানা যানবাহন। কিন্তু সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান ব্রিজটি ভেঙে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর ব্রীজটির উপরিভাগের পুরোটাই ভাঙার কাজ শেষ। এখন চলছে নিচের অংশ ভাঙার কাজ। ভাঙার পরে এসব ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে গেছেন চেয়ারম্যান।

 

সেতু ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা কাজ করছি। আর ২-৩ দিন হলে ভাঙা শেষ হবে।

 

স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের কথা বলে নিলাম বা দরপত্র ছাড়াই গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিক দিয়ে সেতুটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করেন। আর সে সব ইট ও রড বাড়িতে নিয়ে গেছেন তিনি। আর কোনো রাস্তা না থাকায় রিকশা, ভ্যান নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তারা।

 

তারা আরও বলেন, ব্রিজ ভাঙার নিলাম হলেও তো মাইকিং করার কথা। সেটাও তো আমরা জানি না।

দক্ষিণ রাজিবপুর ওয়ার্ডের মেম্বার লিটন মিয়া বলেন, আমার এলাকার ব্রিজ ভাঙল অথচ আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।

সেতু ভেঙে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ধোপাডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ওই স্থানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প ধরা হয়েছে। তাই এটি ভাঙ্গা হচ্ছে। ভাঙ্গার অনুমতি আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজ উপজেলা অফিসে আছে। পরে দেখানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।