Image description

সারা দেশে গত এক বছরে (২০২৪-২৫ সাল) মাজারে ৯৭টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় ৪৬৮ ব্যক্তি। নিহত হয় অন্তত তিনজন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন মাকাম (সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ)-এর সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ।

মাজারে হামলার ঘটনায় নিজেদের অনুসন্ধ্যানে ‘সুফি-সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাকাম’ হামলা বিষয়ে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এদিন বিকেলে ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে  প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ১৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি অপ্রমাণিত ৩৭টি হামলার মধ্যে ৬টি গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে।

৯৭টি হামলার মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেই ৬৪টি হামলা সংঘটিত হয়েছে, যা মোট ঘটনার দুই-তৃতীয়াংশ। হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ১টি হামলা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটে।

 

হামলার শিকার ৪৪টি মাজার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সমসংখ্যক মাজারে বার্ষিক ওরশ আয়োজন বন্ধ রয়েছে। মাকামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভিডিও বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩টি ঘটনায় ‘নারায়ে তাকবির/লিল্লাহি তাকবির-আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে হামলা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এর মাধ্যমে হামলাগুলোতে প্রধানত ‘তৌহিদি জনতা’র নেতৃত্ব শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। হামলার সঙ্গে কার্যক্রম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, দরগাহ, খানকাগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনঃসংস্কার কার্যক্রম এবং সার্বিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করতে ১২টি রাজনৈতিক দলকে মাকামের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করেন মাকামের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ আবু সাঈদ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক তাহমিদাল জামি, আইনি সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহীম, সেন্টার ফর ইসলামিক হেরিটেজের সহ-সমন্বয়ক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, মাকাম রিসার্চ টিমের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম, আবু হাসান মুহাম্মদ মুখতার ও মুনীর উদ্দিন আহমদ, হামলার শিকার মুর্শিদপুর দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা মতিউর রহমান, চাঁদপুরী শাহ দরবারের প্রতিনিধি মাওলানা গোলাম জিলানীসহ অন্যরা।