রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিক নিজেও বাসায় আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নারীর নাম রওশন আরা (৫০)। তার স্বামীর নাম গোলাম কিবরিয়া কামাল (৫৫)। তিনি ‘কামাল মালিক’ নামে সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে স্থানীয় ‘দৈনিক রাজশাহী সংবাদ’-এর উপসম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁরা শহরের হড়গ্রাম বাজার এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ আলী বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক অনুমান এই যে পারিবারিক দ্বন্দ্বে কামাল মালিক প্রথমে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। এরপর নিজেই নিজের হাতে ও পায়ে জখম করেছেন। তারপর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে রাসায়নিক (ডি অদ্যাক্ষরের) পান করেন।’
ওসি জানান, কামাল মালিক এখন রামেক হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন। সেখানে পুলিশ আছে। তবে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। এ নিয়ে এখনও কোনো মামলাও হয়নি। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার পর এই বাসা থেকেই স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন জানান, রওশন আরাকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। তাঁর গলায় একটি কাপড় প্যাঁচানো ছিল। তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।’
তিনি আরও জানান, সাংবাদিক কামাল মালিকের হাতে ও পায়ে জখম আছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনতলা ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন কামাল মালিক। ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা বাড়িতে যান। সেখানে মেঝেতে রওশন আরার দেহ পড়ে ছিল। আর বিছানায় আহত অবস্থায় ছিলেন কামাল মালিক। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দৈনিক রাজশাহী সংবাদ-এর সম্পাদক আহসান হাবীব অপু বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরাও হাসপাতালে এসেছি। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে তা এখনও জানি না। সাংবাদিক কামাল মালিকের অবস্থা সংকটাপন্ন। হাত ও পায়ে জখম আছে। সম্ভবত রগ কেটে গেছে। তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হচ্ছে।’
রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে। সিআইডির ক্রাইম সিনও এসেছে। তারা কাজ করছেন। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এখনও মন্তব্য করার মতো অবস্থায় পৌঁছানো যায়নি।’