দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনি হেফাজতে থাকা নিবন্ধিত ভোটার– এই তিন শ্রেণির মানুষের হাতে সোমবার থেকে পোস্টাল ব্যালট দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ইসি সচিব। তিনি জানান, প্রবাসী ভোটারদের ব্যালট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। সেগুলো অবশ্যই এয়ারপোর্ট বা তেজগাঁওয়ের নির্ধারিত মেইল প্রসেসিং সেন্টার হয়ে আসতে হবে। কেউ দেশে এসে স্থানীয় পোস্টবক্সে ব্যালট ফেললে তা গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। ভোটের দিন বেলা সাড়ে ৪টার পর পৌঁছানো ব্যালট গ্রহণ করা হবে না।
আখতার আহমেদ বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফল ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা, সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে। প্রবাসী ভোটের ক্ষেত্রে গণনায় তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে চার ধরন ও দুই পাশে প্রতীক রয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যালটের প্রায় ১১৯টি প্রতীক চোখে স্ক্যান করে যাচাই করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়া একজন রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে প্রায় ১৬ হাজার প্রবাসী ব্যালট এক কেন্দ্রে গণনা করতে হবে।
ইসি সচিব জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনা একই সময়ে হলেও আলাদা আলাদা টিমের মাধ্যমে হবে। উভয় ভোটের ফলাফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হওয়া মাত্র ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য নির্ভুল, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী ভোট গণনা নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশবাসী যাতে দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল পান, সেজন্য আমরা কাজ করছি।
আখতার আহমেদ বলেন, ভোট গণনায় শৃঙ্খলা ও সহায়ক দায়িত্ব পালনে প্রায় ১৬ হাজার বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন থাকবে। তবে তারা সরাসরি গণনার কাজে অংশ নেবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি, রিটার্নিং অফিসার ও স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে করার পরামর্শ দেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ পাঠালে তা প্রক্রিয়াগত কারণে সময় লাগে। তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান ব্যবস্থা নাও দেখা যেতে পারে।
কতটি অভিযোগ জমা পড়েছে– প্রশ্নে তিনি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি। তবে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়মিত অভিযোগের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করছে। পোস্টার, বড় ব্যানার ও পিভিসি ব্যানার বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ও তদন্ত কমিটিকে জানাতে হবে।