Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে ভোটযুদ্ধে নেমেছে। প্রতীক বরাদ্দের পর দলটির প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও, কিছু আসনে শরিকদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করছেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক ১০ দলের তৃণমূল বাগে না আসলে ‘শাপলা কলি’ চ্যালেঞ্জে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ শরিক হিসেবে ২৯টি আসনে ছাড় পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপি। এর বাইরে মৌলভীবাজার-৪ আসন উন্মুক্ত থাকায় প্রার্থী দিয়েছে দলটি। যদিও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৌলভীবাজারের বাইরে ছাড়া পাওয়া আসনের মধ্যে অন্তত ১২টিতে শরিক দলের প্রার্থী রয়েছেন। অসহযোগিতা ও শরিকদের ‘বিদ্রোহ’ শেষ পর্যন্ত কাল হতে পারে এনসিপির।

এনসিপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, ডজনখানেক আসনে এককভাবে তাদের প্রার্থীর অবস্থান শক্ত। প্রচারের দিন যত এগোবে, তত জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে কিছু আসনে শরিক দলগুলোর প্রার্থী থাকা এবং তাদের কাছ থেকে পুরোপুরি সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয় তাদের ভাবাচ্ছে।

সূত্র বলছে, এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ৩০ আসনেই দলীয় প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সেভাবেই পরিকল্পনা করে কাজ করছেন নেতাকর্মী। তবে ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম, নোয়াখালী-৬ আসনে হান্নান মাসউদ, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিক মুজাহিদ, পিরোজপুর-৩ আসনে শামীম হামিদী, দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. আবদুল আহাদসহ বেশ কয়েকজনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকায়, সেখানে বাড়তি নজর দিচ্ছে। শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিরোধ মেটাতে সব ধরনের চেষ্টা করছে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

জটিলতা ১২ আসনে

উন্মুক্ত মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপির প্রীতম দাশের বিপরীতে শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী হিসেবে মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদীকে রেখেছে। সমঝোতায় ছাড় পাওয়া বাকি ২৯ আসনে এককভাবে দলটির নির্বাচন করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা হয়নি। এসব আসনের মধ্যে অন্তত ১২টিতে শরিকরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম-৮ ও নরসিংদী-২ আসনে ছাড় পেলেও, সেখানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন জামায়াতে ইসলামী। নারায়ণগঞ্জ-৪, ঢাকা-২০ ও রাজবাড়ী-২ আসনে খেলাফত মজলিস নিজেদের প্রার্থী বহাল রেখেছে। আর সিরাজগঞ্জ-৬ ও ঢাকা-২০ আসনে শাপলা কলির সঙ্গে রয়েছেন শরিক আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থীরা।

পঞ্চগড়-১ আসনে সদ্য যোগ দেওয়া বাংলাদেশ লেবার পার্টি, রংপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, কুড়িগ্রাম-২ আসনে এবি পার্টি, ঢাকা-১৯ আসনে এলডিপি, কুমিল্লা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস এবং নেত্রকোনা-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি।

তৃণমূলে স্নায়ুযুদ্ধ

নরসিংদী-২ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসন ছাড় পেলেও সেখানে জামায়াত-শিবিরের তৃণমূল নেতাকর্মীর তোপে পড়েন এনসিপির প্রার্থীরা। একই অবস্থা ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ আসনের। কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে লক্ষ্মীপুর-১ আসন নিয়ে এনসিপিতে স্বস্তি ফিরলেও নরসিংদী-২, ঢাকা-১৯ এবং ঢাকা-২০ আসনে জটিলতা রয়েই গেছে। যদিও গতকাল রোববার রাতে ঢাকা-১৯ আসনে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন।

নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বিপরীতে প্রার্থী রয়ে গেছেন জামায়াতের আমজাদ হোসাইন। জামায়াত প্রার্থী প্রচার না চালালেও তুষারকে সহযোগিতা করছেন না। দলটির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী শাপলা কলির প্রচারে যুক্ত হচ্ছেন না।

সারোয়ার তুষার স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলার পরও তৃণমূল থেকে সেভাবে তিনি সহযোগিতা পাচ্ছেন না। স্থানীয় নেতারা সময় চেয়েছেন, শিগগির সংকট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ। স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে নাবিলা শিবির থেকে।

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্ট্রিমকে জানান, বেশ কয়েকটা আসনে শরিকদের প্রার্থী থাকায় তাদের জন্য সমস্যা হচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে। শিগগির শাপলা কপির পক্ষে সবাই মাঠে নামবেন।

একই কথা জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, সমঝোতার আসনে প্রার্থী থাকা কিংবা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসহযোগিতার মনোভাব দূরে কাজ চলছে। এগুলো রাতারাতি সমাধান হবে না। আমরা শরিকরা নিয়মিত বসছি। আশা করছি, দুয়েক দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।