নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়া মহিলা জামায়াতের কর্মীদের হিজাব খুলতে চাওয়া থেকেই লালমনিরহাটে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড় সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান। অন্যদিকে একই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। রবিবার বিকেলে ওই এলাকায় মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগে যায়। একই সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা একই স্থানে গণসংযোগে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মহিলা জামায়াতের কর্মীদের হিজাব খুলতে বলেন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। এক পর্যায়ে জামায়াতের পুরুষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এক মহিলা জামায়াত কর্মী বলেন, আমরা যেখানেই ভোটের জন্য যাই— এটা তো সবার অধিকার। সবাই সব জায়গায় ভোটের প্রচার-প্রচারণা করতে পারে। আমরা তো যুদ্ধ করতে আসিনি। আমরা চাই, আমরা শান্তভাবে ভোট চাইব। কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করব না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক চলে এসেছি। এসে দেখলাম হিজাব খোলা নিয়ে এই ঘটনা... হিজাব একটু খুল তো। এই ঘটনা থেকে শুরু হয়ে এখানে দুই-তিনটা মোটরসাইকেল ভাঙচুর হল, আবার বাড়ির ভিতরে কিছু ইট-পাটকেল মারল। বাড়ির ভেতরেও দেখলাম দুইটা মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয়েছে। একটু সামান্য ঘটনা থেকেই এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। আইনের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ যতটুকু করণীয়, তদন্তসাপেক্ষে আমরা তা করব।
এসপি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আজকের ঘটনা নির্বাচনের পরিবেশটাই নষ্ট করল। এর আগে লালমনিরহাটে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি, এখন পর্যন্ত প্রথম এ ঘটনা ঘটল। আমরা সম্পূর্ণ শতভাগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করব। যার যতটুকু অপরাধ, তার ততটুকু দায়িত্ব নিতে হবে।