Image description
 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথম সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন তিনি। হালের আলোচিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলামও নির্বাচনে প্রথম। তবে শুধু প্রার্থিতা-ই নয়, নাহিদ ইসলাম প্রথমবারের মতো ভোটাধিকারও প্রয়োগ করবেন এই নির্বাচনে।

দলীয় প্রধানদের নির্বাচনী ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেকর্ড বিবেচনায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এরপরই রয়েছেন যথাক্রমে জাতীয় পার্টির সভাপতি জিএম কাদের ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেও কখনই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার রেকর্ড নেই ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করিমের।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবারের অংশ নিতে যাওয়া দলীয় প্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো রাজনীতিক বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় আগমন ঘটে তার। ২০০২ সালে দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান দলটির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন তারেক রহমান। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার তিরোধানের পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তিনি ভারমুক্ত হন। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি তিনি।

তথ্য বলছে, তারেক রহমানই নন, এ বছর আলোচিত বেশ কয়েকজন দলীয় প্রধান প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই তালিকায় রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম নুর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা), ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা), মাওলানা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) এবং মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বরিশালের চর মোনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি কখনও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। এ বছরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না এই দলীয় প্রধান। দলটির ডি-ফ্যাক্টো লিডার ও সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী।

প্রথমবার নির্বাচন করা এসব প্রার্থীর মধ্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু তুলনামূলক পুরোনো রাজনীতিক। ২০০৩ সালে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের বছর আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। তবে সাংগঠনিক সংস্কারের পক্ষ নেওয়ায় ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বহিষ্কৃত হন। এরপর ২০২০ সালের ২ মে গঠন করেন এবি পার্টি। জামায়াতে থাকার সময়ে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। এবি পার্টি গঠনের পর ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো এবি পার্টিও তা বর্জন করে।

অপরদিকে মাওলানা মামুনুল হক ২০০৯ সালে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। ২০২০ সালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। পরে দলের আমির নির্বাচিত হলেও কখনও কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার রেকর্ড নেই মামুনুল হকের।

২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভিপি নির্বাচিত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। এর আগের বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। ওই বছরই গঠন করেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। ছাত্র সংগঠনের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে মূল রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচন এই দল বর্জন করে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত নেতা এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন তিনি। পরে পদত্যাগ করে যোগ দেন সদ্যগঠিত এনসিপিতে, যেখানে তিনি আহ্বায়ক মনোনীত হন। এর আগে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি তিনি, এমনকি এ বছরই প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নাহিদ।

এর আগে একবার অংশ নিয়েছেন যারা
আলোচিত দলীয় প্রধানদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। মাহমুদুর রহমান মান্না এ বছর ঢাকা-১৮ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বগুড়া-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ২০১৫ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মেয়র পদে প্রার্থিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে তিনি অংশ নেন। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে তাকে আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

‘অভিজ্ঞ’ প্রার্থী কারা?
জামায়াতে ইসলামীর আমির ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় ঐক্যজোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে বছর ১২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হন তিনি, যা ছিল ৪১.৫ শতাংশ। নবম সংসদ নির্বাচনে তাকে কোথাও মনোনয়ন দেয়নি জোট। ২০১৪ সালের দশম এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন জোট ও দল থেকে বর্জ করায় তিনি প্রার্থী হননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। বিতর্কিত ওই নির্বাচন দুপুরের আগেই বর্জন করে জোট।

ডা. শফিকুর রহমান ছাত্রাবস্থায় ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। পরে ছাত্রশিবির ও জামায়াতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন শেষে দলটির আমির নির্বাচিত হন। বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার স্ত্রী আমেনা বেগম অষ্টম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

দুই সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের আরেকজন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি ২০০০ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ২০০৮ সালে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই বছর নবম সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন পার্থ। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার দল বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচন বয়কট করে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছিলেন। এ বছর বিএনপির শরিক হিসেবে তিনি ঢাকা-১৭ ও ভোলা-১ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পরে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের ঘোষণা দিলে তিনি এখন ভোলা থেকে নির্বাচন করছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত নেতা এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন তিনি। পরে পদত্যাগ করে যোগ দেন সদ্যগঠিত এনসিপিতে, যেখানে তিনি আহ্বায়ক মনোনীত হন। এর আগে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি তিনি, এমনকি এ বছরই প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন নাহিদ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বরিশালের চর মোনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি কখনও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। এ বছরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না এই দলীয় প্রধান। দলটির ডি-ফ্যাক্টো লিডার ও সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী। এর আগে ওই আসন থেকে ২০০১ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করে পরাজিত হন। এর মধ্যে ২০০১ সালে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে এবং ২০০৮ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দলটি ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে সৈয়দ ফয়জুল করিম প্রার্থী হননি।

দলীয় প্রধানদের মধ্যে তুলনামূলক দীর্ঘ নির্বাচনি ইতিহাস রয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের। তিনি এ পর্যন্ত ছয়টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, এর মধ্যে ৫ বারই বিজয়ী হয়েছেন। এ বছরও তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।২০০১ সালে অষ্টম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালের নবম ও ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন। তবে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।

নির্বাচনী ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, বর্তমান দলীয় প্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের। এ বছর তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট থেকে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের প্রার্থী।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় ঐক্যজোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে বছর ১২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হন তিনি, যা ছিল ৪১.৫ শতাংশ। নবম সংসদ নির্বাচনে তাকে কোথাও মনোনয়ন দেয়নি জোট। ২০১৪ সালের দশম এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন জোট ও দল থেকে বর্জ করায় তিনি প্রার্থী হননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। বিতর্কিত ওই নির্বাচন দুপুরের আগেই বর্জন করে জোট।

কর্নেল অলি ১৯৮০ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে পদত্যাগ করে অবসরে যান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দীর্ঘ দিনের সহযোগী এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে বঙ্গভবনে থাকা অবস্থায় পর্দার আড়ালে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং বিএনপির নামকরণ তিনিই করেন। তিনি পার্টির অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপিতে যোগদান করেন। পরের মাসেই উপনির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-১৩ (বর্তমান চট্টগ্রাম-১৪) নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে কর্নেল অলি আহমদ যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান। সামরিক আইন জারি হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে দ্বিতীয়বার, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয়বার, একই বছরের জুনে সপ্তম নির্বাচনে চতুর্থবার, ২০০১ সালে পঞ্চমবার এবং ২০০৮ সালে ৬ষ্ঠবার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচন করলেও তিনি পরাজিত হন।

এর মধ্যে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ মন্ত্রী এবং বড় বড় নেতারা নির্বাচনে পরাজয় বরণ করলেও কর্নেল অলি আহমদ চট্টগ্রামের ২টি আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন। দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে এলডিপি গঠন করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দলটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় মহাজোটের শরিক ছিল। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এলডিপি মহাজোট থেকে বের হয়ে আসে এবং স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে। ২০১২ সালে এলডিপি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় ঐক্যজোটে প্রবেশ করে। ১৮ দলীয় ঐক্যজোট ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচন বর্জন করলে সাথে এলডিপিও নির্বাচনটি বর্জন করে।