মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়া বাংলাদেশকে সিদ্ধান্তের জন্য গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও লিটন দাসদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান বাংলাদেশ আগের সিদ্ধান্তেই অনড় আছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, শ্রীলংকায় ম্যাচ সরানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এর দুদিন পর বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার অফিসিয়াল ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এরই মধ্যে স্কটল্যান্ডকে নিয়ে বিশ্বকাপের নতুন সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে।
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকাশিত ম্যাচ সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিসিবি নির্ধারিত সূচি মেনে ভারতে খেলতে না চাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের জায়গায় গ্রুপ ‘সি’-তে খেলবে স্কটল্যান্ড। এই গ্রুপে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আইসিসি জানায়, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকার পরও বিসিবি তাদের ম্যাচ শ্রীলংকায় সরানোর আবেদন জানায়। শ্রীলংকা এই বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হলেও আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
এ বিষয়ে আইসিসি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে একাধিক স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন চালায়। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আইসিসি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ভারতে বাংলাদেশ দল, কর্মকর্তারা কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উত্থাপিত উদ্বেগ নিরসনে আইসিসি দীর্ঘ ও বড় আকারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্বচ্ছ ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বিসিবির সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করা হয়েছে। এর মধ্যে ভার্চুয়াল ও সরাসরি বৈঠক দুটোই ছিল।
আইসিসি জানায়, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিসিবির উত্থাপিত সব উদ্বেগ পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও স্বাধীন বাইরের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করানো হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ টুর্নামেন্টটির বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিসিবিকে জানিয়েছে। এসব নিশ্চয়তা আইসিসি বিজনেস করপোরেশন (আইবিসি) বোর্ডের আলোচনাসহ একাধিক পর্যায়ে আলোচনা করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইসিসির মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভারতে বাংলাদেশ জাতীয় দল, কর্মকর্তা কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই। এসব বিবেচনায় নিয়ে এবং বৃহত্তর প্রভাব মাথায় রেখে প্রকাশিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আইসিসি তাদের নীতিমালা ও বাছাই প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিকল্প দল নির্বাচন করে।