আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন (আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আয়োজিত এক প্রচারণা সভায় উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি এবং সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান।
বক্তব্য প্রদানকালে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, গণভোট কী, তা আপনারা জানেন এবং কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হওয়া প্রয়োজন, সেটাও জানেন। কিছু মানুষ ও মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, নতুন কিছু চায়। তারই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঐকমত্য কমিশন গঠন করে এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের সংস্কার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সংস্কার প্রস্তাবনার মধ্যে বিএনপি স্পষ্টভাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। যার ফলে অন্তর্বর্তী সরকারকে নতুন করে গণভোটের আয়োজন করতে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার চায়। সেই জায়গা থেকে আমাদের উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে গণভোটের প্রচারণা চালানো। যারা হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে, তাদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশের মানুষ জয়ী হবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হবে।
সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, আমরা ছাত্রদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে সারা দেশ ভ্রমণ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা কুষ্টিয়ায় একটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। সেখান থেকে আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভূমিতে সকল সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করুন। আগামী নির্বাচনে যেন ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়—এই আমানত আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। এই ক্যাম্পাসে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাজিদ আবদুল্লাহ নিহত হয়েছেন। এখনো এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। একজন ছাত্র, আমাদের ভাই—তার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। এই দুটি দাবি আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।