Image description

কথা কম কাজ বেশি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার ১২দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘোষণা করেছেন তিনি।

 

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-মাদক-দখলদারিত্ব প্রতিরোধ, নারী অধিকার ও নিরাপত্তা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ প্রতিরোধ, নীতি-নির্ধারণে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঢাকা ১২ সিটিজেন কাউন্সিল গঠন-সহ ১২দফা প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত আছে এ ইশতেহারে।

তাসলিমা আখতারের ঢাকা-১২আসনের ১২ দফা ইশতেহার হলো-

১. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও নাগরিক সেবা: গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ-ড্রেনেজ সংকটের স্থায়ী সমাধান। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। দিন-রাতে টিসিবি রেশন-রাত্রিকালীন ব্যাংক-ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতিমুক্ত প্রবেশাধিকার। নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পাবলিক টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা। ভর্তুকি মূল্যে লন্ড্রি এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ।

২. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদক দখলদারমুক্ত এলাকা তৈরি করা: ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি কমিটি, বাজার, পরিবহন, নির্মাণ খাত, প্রশাসনসহ সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করা। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন করা। মাদক থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৩. নারী অধিকার ও নিরাপত্তা: ঘরে বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে কমিটি কার্যকর করা। সমকাজে সমমজুরি, ডে কেয়ার, নিরাপদ আবাসন ও আইনি সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পডেস্কের ব্যবস্থা করা।

৪. শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান, জান-জীবিকা ও জবানের অধিকার: জাতীয় মজুরি কমিশন ও মর্যাদাপূর্ণ মজুরির নিশ্চয়তা। শ্রম আইন ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বাস্তবায়ন। বেকারদের তরুণদের জন্য ভাতা কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের নিশ্চয়তা।

৫. শিক্ষার অধিকার: দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ। শিক্ষকদের জন্য বেতন ও সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ।

৬. স্বাস্থ্যসেবা: ওয়ার্ডভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মা ও শিশু প্রবীণ সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স ও ২৪ ঘণ্টার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

৭. শিশু তরুণ ও যুব উন্নয়ন: খেলার মাঠ পার্ক ও পাঠাগার পুনরুদ্ধার। ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা। আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ। মাদকমুক্ত এলাকা গঠনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

৮. পরিবেশ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা: ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুযায়ন, বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ। খাল ও জলাধার সংরক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণ।

৯. ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা: সব ধর্মের উপাসনালয় নিরাপত্তা ও সংস্কার। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

১০. প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা: প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো শিক্ষা সংস্কারে কোটা ও সহায়তা। হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও জীবিকা নিশ্চিত করা।

১১. নাগরিক কাউন্সিল ও জবাবদিহিতা: ঢাকা-১২ নাগরিক কাউন্সিল গঠন। সংসদ সদস্যদের গণশুনানি। জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

১২. স্থানীয় সরকার থেকে সংসদ প্রতিনিধির সাথে সমন্বয় সাধন করা: সংসদ সদস্য সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন ওয়ার্ড কাউন্সিল ও সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে সুসমন্বয় নিশ্চিত করা।