Image description
রাজশাহীতে ঝুঁকিপূর্ণ ‘রাইসা টাওয়ার’

অনুমোদন ছিল ১১ তলার। কিন্তু ভবন উঠেছে ১২ তলা। তার ওপর ছাদে তোলা হয়েছে প্রায় ২০ ট্রাক মাটি, তৈরি করা হয়েছে বড় আকারের ছাদবাগান। একই ছাদে রয়েছে নকশাবহির্ভূত সুইমিংপুল, যেখানে সারা বছর থাকে বিপুল পানির চাপ। ভবন মালিক ছাদে ওঠার সিঁড়িতে দিয়ে রাখেন তালা। নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। ফলে ভবনের বাসিন্দারা কার্যত থাকেন অবরুদ্ধ। এটি নির্মাণে পদে পদে লঙ্ঘন করা হয়েছে বিদ্যমান ইমারত বিধিমালা। রাজশাহী মহানগরীর তেরখাদিয়া পশ্চিমপাড়ার বহুতল ভবনটির নাম ‘আল রাইসা টাওয়ার’।

ভবনের মালিকের নাম আব্দুর রশিদ। তিনি জেলার গোদাগাড়ীর বাসিন্দা। আবাসিক হিসাবে অনুমোদন নেওয়া হলেও সম্প্রতি তিনি গ্রাউন্ড ফ্লোরে দোকান ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। টাওয়ারের বাসিন্দারা সম্প্রতি রশিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ও রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালকের কাছে। তবে তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, আনুমানিক ১৩ কাঠা জায়গার ওপর ২০২১ সালে ভবনটির নকশা অনুমোদন দেওয়া হয় আরডিএ থেকে। নির্মাণের সময়েই তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার প্রভাবে ইমারত বিধিমালার তোয়াক্কা করেননি ভবন মালিক। নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। পরে ভবনের ৫০টি ফ্ল্যাট বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করেন।

১৫ জানুয়ারি ফ্ল্যাট মালিকরা আরডিএ চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, ভবন মালিক রশিদ ভবনের ছাদে প্রায় ২০ ট্রাক মাটি উঠিয়ে সেখানে বড় আকারের সবজি বাগান তৈরি করেছেন। ছাদে বিপুল পরিমাণ লোড পড়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে ভবন ধসে পড়ে বাসিন্দারা জানমালের বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এছাড়া মালিক ছাদে নকশাবহির্ভূতভাবে একটি সুইমিংপুলও নির্মাণ করেছেন যেখানে সব সময় বিপুল পরিমাণ পানি থাকে। সুইমিংপুল মালিক ও তার পরিবারের লোকেরা ব্যবহার করেন। বিধিমালা লঙ্ঘন করে রশিদ ১১ তলার পর আরও একটি তলা নির্মাণ করেন। ভবনের ভেতরে অতিরিক্ত ডুপ্লেক্স ঘর নির্মাণ করেন। নকশায় নির্দেশিত ভবনের চারদিকে যে পরিমাণ জায়গা রাখার কথা তা না করে ইচ্ছেমতো কার্নিশ সম্প্রসারণ করেন। এসব কারণে ভবনটি অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে আরও জানা যায়, ১৪ জানুয়ারি ভবন মালিক গ্রাউন্ড ফ্লোরে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। ফ্ল্যাট মালিকরা আপত্তি জানালেও নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়নি। অভিযোগকারীরা বলছেন, রাইসা টাওয়ার সম্পূর্ণ আবাসিক ভবন হিসাবে প্ল্যান বা নকশা নেওয়া হয়েছে আরডিএ থেকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাইসা টাওয়ারের মালিক আব্দুর রশিদ বলেন, ছাদের সুইমিংপুলটা তেমন বড় কোনো ঝুঁকি নয়। তাছাড়া সরকার ছাদে বাগান করতে উৎসাহ দিয়ে থাকে। সেটা করেছি। নকশা লঙ্ঘন করে ভবনের ওপর অতিরিক্ত আরেকটি তলা নির্মাণ প্রসঙ্গে রশিদের দাবি, এমন ঘটনা রাজশাহীতে বহু আছে। আরডিএ চাইলে ভেঙে দেবে। আমি আরডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছি। অন্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (যুগ্ম সচিব) এসএম তুহিনুর আলম বলেন, ভবন মালিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভবনের ছাদে নকশাবহির্ভূতভাবে সুইমিংপুল ও মাটি উঠিয়ে সবজি বাগান করার ফলে ছাদের ওপর অতিরিক্ত লোড পড়ে। এতে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হয়েছে। মালিককে শিগগিরই এটি অপসারণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না করলে আরডিএ নকশাবহির্ভূত সব অবকাঠামো ভেঙে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।