অনুমোদিত মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পরীক্ষা কার্যক্রমে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধান টিমের সুপারিশ অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহারে যাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশে নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন পিএসসির সাবেক সদস্য এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম, মির্জা শামসুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবিদুর রেজা খান, এহসান শামীম, অধ্যাপক রাশিদা বেগম, মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত, অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী, সৈয়দ হাসিনুর রহমান, ইকরাম আহমেদ, প্রফেসর ডা. ফরিদা আদিব খানম এবং মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান।
এ ছাড়া পিএসসির সাবেক সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন এবং তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব) মো. লোকমান আহমদের বিরুদ্ধেও এই জালিয়াতিতে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসা জালিয়াতির সুবিধাভোগী ৬ কর্মকর্তার মধ্যে রকিবুর রহমান খান (প্রশাসন ক্যাডার) বর্তমানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উপসচিব হিসেবে কর্মরত। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা রকিবুর রহমান খান পিএসসির সদস্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোনো সনদপত্র না থাকা সত্ত্বেও ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দণ্ডবিধি আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।
তালিকার তৃতীয় কর্মকর্তা নাহিদা বারিক (প্রশাসন ক্যাডার) বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপসচিব হিসেবে কর্মরত, যার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার ডেমরায়। তিনিও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।
পুলিশ ক্যাডারের খোরশেদ আলম বর্তমানে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ৬ এপিবিএনের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কর্মরত। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বাসিন্দা খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে কোনো বৈধ মুক্তিযোদ্ধা সনদ ছাড়াই প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নিয়মিত মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক হালিমা খাতুন (পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার) এবং ঝিনাইদহের সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিল্টন আলী বিশ্বাসও (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার) একই অভিযোগে অভিযুক্ত।
ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাসিন্দা হালিমা খাতুন এবং সদর উপজেলার বাসিন্দা মিল্টন আলী বিশ্বাস উভয়েই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে ও সনদপত্র ছাড়াই যথাক্রমে পরিবার পরিকল্পনা ও শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।