টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে দলীয় নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতির চাপে তিনি দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, বুধবার বিকেলে সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের একটি কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সমাবেশে টাঙ্গাইল-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে অতিথি করা হয়। তবে একই সময়ে কাদের সিদ্দিকীর বাসার অদূরে স্থানীয় বিএনপি খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। ওই আয়োজনের কয়েকটি মাইক কাদের সিদ্দিকীর বাসার সামনেও টাঙানো হয়। বিকেল চারটার দিকে কাদের সিদ্দিকী নিজের বাসায় আসেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাদের সিদ্দিকী নিজের কর্মী সমাবেশ স্থগিত করে তা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আয়োজনের ঘোষণা দেন।
নিজের পূর্ব নির্ধারিত সমন্বয় সভা স্থগিত করে কাদের সিদ্দিকী হঠাৎ স্থানীয় বিএনপির দোয়া মাহফিলে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে দাঁড়িয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনারা দোয়ার আয়োজন করেছেন এটা আমি জানতাম না। আপনাদের সম্মান জানিয়ে আমি আজকের মিটিং কালকে দিয়েছি। আমি চাই সুষ্ঠু সুন্দর ভোট হোক।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিএনপির বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন করি নাই। বিএনপি নেতা কর্তৃক (বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আযম খান) একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে মারার জন্যে, অপমান করার জন্য, একজন মুক্তিযোদ্ধার পিঠের চামড়া তোলার কথা বলার জন্যে তার বিরুদ্ধে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি।’ এ সময় উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসব কথা বিরোধীতা করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন। পরে কাদের সিদ্দিকী ওই সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী তাৎক্ষণিক কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের দোয়া মাহফিলটি পূর্ব নির্ধারিত ছিল। ওখানে গিয়ে ওনি (কাদের সিদ্দিকী) কথা বলতে চাইলে সম্মান জানিয়ে আমরা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ওনি এমন একটি বাক্য বললেন যার কারণে আমাদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে আমরা তাদের নিভৃত করে কাদের সিদ্দিকীকে বিদায় করে দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম) সম্প্রতি লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে সমর্থন দিয়েছেন। সমর্থনের বিষয়ে তিনি প্রায়ই বলে থাকেন, আমরা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। তবে এ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অপমানজনক কথা বলেছেন। এ কারণে আমরা আযম খানের বিরুদ্ধে।