ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার উৎসব শুরু হচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি মাঠের লড়াই শুরু হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারে মাঠে নামছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতারা। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করবেন আজ থেকে।
এ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদিন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের নির্ধারিত প্রতীক দেওয়া হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ‘ধানের শীষ’, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও এনসিপির প্রার্থীদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত তালিকা থেকে। ওই প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে মূলত তারা প্রচারে নেমে পড়েছেন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রচারে বিধি লঙ্ঘন নিয়ে একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগ শুরু করেছেন।
যদিও ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’র ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগতভাবে আজ থেকে এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার কথা। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। অর্থাৎ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে। নির্বাচনি প্রচারে আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
প্রচার শুরুর প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন। এটাই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি জনসভা। সড়কপথে ঢাকায় আসতে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলায় সাতটি জনসভায় বক্তৃতা করবেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ নম্বরে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করবেন। এরপর তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনি প্রচার চালাতে যাবেন। এদিকে জাতীয় তিন নেতার মাজার (শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম) ও ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আজ নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একইভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও আজ থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই হাজার ৫৮০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও ২৯৮টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন এক হাজার ৯৭২ জন। নির্বাচনি ব্যালটে এসব প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকায় ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে। বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ১৩টি আসন, ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৫টি এবং আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ২টি আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ গ্রহণ করেছেন তার প্রতিনিধি ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কাছ থেকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ১৭টি বছর বাংলাদেশের তরুণ সমাজসহ অনেকেই ভোটে এবং ভোটদানে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণের কাছে একটি সুযোগ এসেছে। আশা করি এই সুযোগটি সব জনগণ কাজে লাগাবে। তিনি বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে সবাই তারেক রহমানকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন ইনশাআল্লাহ।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জামায়াতের আমির ঢাকা-১৫ আসনের দলটির প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক সংগ্রহ করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের। পরে তিনি বলেন, আমরা আশা করব এই নির্বাচন সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত ও ভয়-ভীতিমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে, নাজেহাল করছে। গতকাল ঢাকা-১৫ আসনে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে আপনারা জানেন। আমরা নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসারকে এগুলো জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আশা করব, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড না ঘটে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচন কর্মকর্তা যারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা এসব বিষয়ে যথেষ্ট দৃষ্টি দেবেন, যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। ইসি ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আগামী নির্বাচন যাতে সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়; এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি গ্রহণ করেন তারই প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে ১০ দলের জোটের প্রার্থী দিয়েছি। আমরা মনে করি, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, রিকশা মার্কাসহ আমাদের ১০ দলের জোটের যে প্রার্থীরা রয়েছেন, তাদের মানুষ ভোট দেবেন। তিনি আরও বলেন, ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েমের জন্য বাংলাদেশে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে; এই গণ-অভ্যুত্থানের পর আজ নতুন বাংলাদেশের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে মানুষ আমাদের বেছে নেবে। কারণ আমরা ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি। একই সঙ্গে মানুষকে চাঁদাবাজ-দখলবাজের বিরুদ্ধে গিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েমের জন্য শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশের মানুষকে ১০ দলের জোটকে নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
বুধবার ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য পছন্দের ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। পরে তিনি বলেন, আমরা যে রাজনীতিটা সামনে দেখতে চাই, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার রাজনীতি, তার ভিত্তিতেই আমাদের নির্বাচনি ক্যাম্পেইন চলবে।
সিলেটে সমাবেশ করে প্রচার শুরু বিএনপির
সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষ্যে বুধবার রাতেই সেখানে পৌঁছেছেন তিনি। আজ সকালে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দলটির নির্বাচনি প্রচার। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রথম ধাপের এ সফরে আজ টানা ৭টি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে তারেক রহমান সিলেট সফর করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের সফর নিয়ে বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। এতে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সকালে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর তারেক রহমান মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর এলাকাসংলগ্ন এলাকায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। এসব সমাবেশে অংশ নিয়ে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফিরবেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ছিল অনবদ্য ও অভূতপূর্ব ভূমিকা। তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতিটি সফরে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ক্রমে সফরসঙ্গী হিসাবে নিয়ে যাবেন এবং দেশের জন্য তাদের যে সংগ্রাম তাকে মূল্যায়িত করবেন। সিলেট সফরে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বেশ কিছু ত্যাগী সংগ্রামী তরুণ নেতৃবৃন্দ। তিনি জানান, সিলেটের পর পরবর্তী সফর হবে চট্টগ্রামে।
বাসায় বাসায় গিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত : সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করা এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। জনগণ যেন এই ব্যাপারে সজাগ থাকেন। কারণ জনগণের অনেক আকাঙ্ক্ষা আছে এবার ভোট দেওয়ার। সেজন্য কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেন নষ্ট না হয়। আমরা যদি দেখি নির্বাচনি আচরণবিধি লংঘন করে কেউ সংঘবদ্ধভাবে কোনো জায়গায় যান, পোস্টাল ব্যালট পেপার দেখলাম প্রবাসে, কোনো কোনো জায়গায় আইডি নিচ্ছেন, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছেন-এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত। বিএনপির নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাব, ইতিবাচক রাজনীতিকে ধারণ করে যেন সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যাই, আমাদের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরি। যেসব অপপ্রচার হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সঠিক অবস্থান নেই।
গণভোটে বিএনপির অবস্থান ‘হ্যাঁ’র পক্ষে : মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের সংসদ-সদস্য প্রার্থী যারা রয়েছেন, তারা যখন ঢাকায় এসেছিলেন, তখন আমরা তাদের সবাইকে বলেছি নির্বাচনি প্রচারণায় গণভোটে আমরা হ্যাঁর পক্ষে অবস্থান নেব।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই চার্টারে অর্থাৎ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির যে অবস্থান ছিল, সেখানে কিছুটা নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলোকে ধারণ করে, গণ-অভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি-মূল রাষ্ট্র কাঠামোর একটা পরিবর্তন করা। সরকারের ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ থাকবে, জবাবদিহিমূলক থাকবে সবার আগে কাজগুলো বিএনপি করেছে। আমাদের যে ৩১ দফা রয়েছে সেখানে সংস্কারের সব চাইতে মৌলিক ভিত্তিগুলো ধারণ করে। সুতরাং আমরা বলছি, গণভোটে হ্যাঁ ভোটে অবস্থান নেব।’ মাহদী আমিন বলেন, ‘নোট অব ডিসেন্ট, গণতন্ত্রে ভিন্নমত ভিন্নপথ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। সেগুলো নিয়ে আমরা সংসদে আলোচনা করব। সামগ্রিকভাবে গণভোটে আমাদের হ্যাঁর পক্ষে অবস্থান-এটা দলের সবাইকে বলে দিয়েছি।’
বিদ্রোহী প্রার্থীরা না বসলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা : আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ‘দেখুন গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, তার আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা আন্দোলন ছিল। দীর্ঘ সময় দেশের সাধারণ মানুষ যেমন ভোট দিতে পারেননি, একই সঙ্গে এটা সত্য অনেক ত্যাগী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ রয়েছেন-যারা কখনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ফলে এত দীর্ঘ সময় পরে যখন নির্বাচন হচ্ছে, বিএনপির মতো একটা বড় রাজনৈতিক দল এখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু প্রতিটি আসনে তো একজনের বেশি মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না।’
তিনি বলেন, ‘অনেক আসনে অনেক প্রার্থী রয়েছেন, অনেক ত্যাগী অনেক সংগ্রামী তারা। দলের জন্য অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারও কারও ভেতরে অনুভূতি রয়েছে, উনি আসনটিতে মনোনয়ন পেতে পারতেন। প্রত্যাহারের সময় চলে গেছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকে আলাপ-আলোচনা করা হবে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আলোচনা করা হবে। তারপরে যদি কেউ প্রার্থী থাকেন অবশ্যই দল থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চাইব, পুরো দল এক হয়ে ধানের শীষের কান্ডারির জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবেন। যারা এটি করবেন না তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’
ঢাকায় নিজ আসন থেকে প্রচারে নামছেন ডা. শফিকুর
দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৩ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রচার। জামায়াত আমির আজ ঢাকা মহানগরীতে তার নিজ আসন ঢাকা-১৫ তে গণসংযোগ করবেন। মিরপুর ১০নং আদর্শ স্কুল মাঠে আজ দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনি জনসভায় বক্তৃতা করবেন। কাল ও পরশু (শুক্র ও শনিবার) উত্তরবঙ্গ সফর করবেন তিনি। জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক ও প্রচার বিভাগীয় প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বুধবার এ তথ্য জানান।
এহসানুল বলেন, ডা. শফিকুর রহমান ২৩ জানুয়ারি বেলা ১১টায় পঞ্চগড়ে ও দুপুর ২টায় দিনাজপুরে গোর-ই-শহীদ ময়দানে জেলা জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন। বিকাল ৪টায় ঠাকুরগাঁওয়ে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিভাগীয় শহর রংপুরে আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা করবেন তিনি। ২৪ জানুয়ারি শনিবার সকালে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। ওই দিন সকাল ১০টায় গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির। একই দিন দুপুর ১২টায় বগুড়া শহরে, দুপুর আড়াইটায় বগুড়ার শেরপুরে, বেলা সাড়ে ৩টায় সিরাজগঞ্জ শহরে, বিকাল ৪টায় উল্লাপাড়ায় এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পাবনায় জনসভায় বক্তৃতা করবেন।
২৫ জানুয়ারি ঢাকা-৫ আসনে দুপুর ১২টায়, ঢাকা-৬ আসনে বেলা সাড়ে ৩টায়, ঢাকা-৭ আসনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে জামায়াত আমির বক্তৃতা করবেন।
এনসিপির সূচনা ৩ নেতা ও হাদির কবর জিয়ারতে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনি প্রচারণা আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। তিন নেতার মাজার (শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিন) ও শহীদ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দলটি মাঠে নামছে। বেলা ১০টায় এ কার্যক্রমের সূচনা করবেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার সন্ধ্যায় দলটির নির্বাচনি মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে প্রচারণা দলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত অগ্রসর হবে।
মাহাবুব আলম বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর থেকে প্রার্থীরা যার যার মতো করে নিজ আসনে প্রচার চালাবেন। ভোট ও দোয়া চাইবেন। ২৫ জানুয়ারি থেকে দলটির সবকটি নির্বাচনি আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি টিম প্রচার-প্রচারণা চালাবে। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন-দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আসিফ মাহমুদ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আদীব আরিফ, মনিরা শারমিন, জাবেদ রাসিন, দিলশানা পারুল, নাবিলা তাসনিদসহ দলের অন্যান্য নেতারা।