সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় রংপুরে জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা নাহিদ হাসান খন্দকার রংপুর মহানগর ছাত্রশক্তির সংগঠক ছিলেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে নগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) রাজেমুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নাহিদ হাসান খন্দকারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তিকে জড়িয়ে নাহিদ হাসান খন্দকার যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। সাংগঠনিক যাচাই-বাছাই ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ তোলা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নীতি ও আদর্শের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের প্রায় একই সময়ে নাহিদ হাসান খন্দকার নিজের ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক পোস্টে নাহিদ হাসান খন্দকার অভিযোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রশক্তির কিছু পদধারী ব্যক্তি বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করছেন এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মেদ ইমতি গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ তোলার পর নাহিদ হাসান খন্দকারের কাছে প্রমাণ চাওয়া হয়। তিনি যে তথ্য ও উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো যাচাই করে দেখা গেছে ছাত্রশক্তির কোনো নেতাকর্মীর প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। পরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে নাহিদ হাসান খন্দকারের দাবি ভিন্ন। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় সংগঠনের এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও ক্লিপ পান। ওই ভিডিওতে ছাত্রশক্তির জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার হাবিবকে প্রশ্নপত্র সরবরাহের প্রস্তাব দিতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক নেতা জানান , জেলা কমিটিতে ‘সরোয়ার’ নামে দু’জনের নাম রয়েছে, একজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও অন্যজন সদস্য, কিন্তু বাস্তবে তারা একই ব্যক্তি। বিষয়টি রংপুর ছাত্রশক্তির একাধিক নেতার সঙ্গেও কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে আরটিএনএন।
প্রশ্ন ফাঁসে অভিযুক্ত সরোয়ারের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি জানান, ‘আংশিক কল রেকর্ড দিয়ে পুরো ঘটনাকে উল্টো দিকে নেয়া হয়েছে, মূলত এটা ছিলো পরিকল্পিত, যা আগামীকালের মাঝেই আপনাদের কাছে পরিষ্কার হবে, তবে পুরো ঘটনাই মিথ্যা ও আমাকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিত।’
নাহিদের অভিযোগ, ভিডিওটি পাওয়ার পর যেই কর্মী তাকে ক্লিপটি দিয়েছিলেন, সেই কর্মীকে ছাত্রশক্তির দুই নেতা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। তার ভাষ্য, ছাত্রদল বা শিবিরকে জড়িয়ে অভিযোগ করলেও হয়তো তারা এরকম হুমকি-ধমকি করতো না, কিন্তু নিজেদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে সংগঠন থেকে ‘মাইনাস’ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা ও এর পেছনে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ সংশ্লিষ্টতার দাবি করে নাহিদ হাসান খন্দকার বলেন, এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র তার কাছে রয়েছে।