Image description
 

পার্টি, পিকনিক, বিয়েবাড়ি নিয়ে শীতকাল জমজমাট। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই মৌসুমে একটু বেশিই খাওয়াদাওয়া হয়। বাঁধা-ধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে খাওয়াদাওয়া চলে। এতে শুধু যে ওজন বাড়ে তা নয়। অধিকাংশ সময়ে প্রভাব পড়ে হজম স্বাস্থ্যের উপর। যেমন ভাজাপোড়া বা মশলাদার খাবার বেশি খেয়ে ফেললে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগতে হয়। পেট ঠিকমতো হয় না। এমন আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই সব সমস্যা কাটিয়ে পুরোনো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ফিরবেন কীভাবে? 

 

শরীরের হাল ফেরাবে ‘রিসেট ডায়েট’ 

লিভার ও কিডনি নিজে থেকেই শরীরে জমা টক্সিন বের করে দেয়। এর জন্য আলাদা করে ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার দরকার পড়ে না। কিন্তু দিনের পর দিন ভুলভাল খাবার খেলে হজমের সমস্যা তৈরি হয়, ব্লোটিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়। তখন লিভার ও কিডনির উপরও চাপ সৃষ্টি হয়। এই সব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ‘রিসেট ডায়েট’। 

‘রিসেট ডায়েট’ কী? 

এই ডায়েট লিভার ও কিডনির ডিটক্সিফিকেশন পদ্ধতিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি হজমের সমস্যা দূর করে এবং শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে দেয়। এতে ওজনও কমে। উৎসবের আমেজ কাটিয়ে পুরোনো খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলে ফেরার আগে কয়েক দিন ‘রিসেট ডায়েট’ করতে পারেন। ‘রিসেট ডায়েট’ ১৫ দিন করলেই উপকার পাওয়া যায়। তবে কিছু নিয়ম মেনে ‘রিসেট ডায়েট’ করতে হয়। 

কীভাবে শুরু করবেন ‘রিসেট ডায়েট’? 

১) শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করতে হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান কর‍তে হবে। ‘রিসেট ডায়েট’-এর প্রথম ধাপই হলো দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা। এছাড়া তরল খাবার বেশি খেতে পারেন। 

২) হজমে স্বাস্থ্যকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করে দিন। প্রচুর পরিমাণে সবজি, ডাল খেতে পারেন। এতে পেট ফাঁপার সমস্যাও দূর হয়ে যাবে। 

৩) টানা কয়েক দিন অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ার পরে ‘রিসেট ডায়েট’ করতে পারেন। যখন ‘রিসেট ডায়েট’ শুরু করবেন তখন প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া চলবে না। এড়িয়ে চলতে হবে প্যাকেটজাত খাবার, ময়দা, চিনি ইত্যাদি। শুধু তাজা ফল, সবজি, মাছ-মাংস-ডিম, ডাল, দানাশস্য খান। 

৪) শুধু যে খাদ্যতালিকায় নজর দেবেন, এমনটা নয়। সচেতন থাকতে হবে রান্না করার সময়েও। বেশি তেল-মশলা দিয়ে রান্না করলে চলবে না। কয়েক দিন সিদ্ধ, কম তেল-মশলাদার খাবার খান। 

৫) ‘রিসেট ডায়েট’-এ হালকা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়। তার সঙ্গে হালকা শরীরচর্চাও জরুরি। এই ৫ নিয়ম মেনে ১৫ দিন ‘রিসেট ডায়েট’ করতে পারেন। এতে কিডনি ও লিভার আবার ঠিকমতো ফাংশন করা শুরু করে দেবে এবং হজম স্বাস্থ্যও উন্নত হবে।