Image description

ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় বিদেশ থেকে ৫ হাজার ৬০০টি পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার এবং ইতালি থেকে ১ হাজার ৬০০টি ব্যালট ফেরত আসে। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দ্বিতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ইসি। রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারি সব ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করার কথা থাকলেও গতকালই তা প্রকাশ করেছে কমিশন।

৫ হাজার ৬০০টি পোস্টাল ব্যালট ফেরত আসা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় এসব ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে মালয়েশিয়া ও ইতালি থেকে মোট ৫ হাজার ৬০০ ব্যালট ফেরত এসেছে। প্রবাসীদের তথ্যে ত্রুটি বা সঠিক ঠিকানার অভাবেই মূলত এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এবার পোস্টাল ব্যালটে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তাতে কান দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এবারের ব্যালট ব্যবস্থায় ‘ফেইস ডিটেকশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে একজনের ভোট অন্য কেউ দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। কারচুপির সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গণঅধিকার পরিষদের দেওয়া একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যালট পেপারের গঠন নিয়ে কথা বলেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালটে মোট ৩৯টি মার্কা রয়েছে, যা ব্যালট পেপারের ভাঁজের মধ্যে পড়েছে। এটি নিয়ে কোনো বিশেষ মহলের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, কমিশন একদমই কোনো চাপে নেই। সবাই চায় ভালো নির্বাচন, কমিশনও তাই চায়। গতকাল নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি কমিশনের একটিই জাতীয় নির্বাচন করারই সুযোগ থাকে। দুইবার কোনো কমিশনই সুযোগ পায় না। কোনো কমিশন আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে না। কমিশন একদমই কোনো চাপে নেই। সবাই চায় ভালো নির্বাচন, কমিশনও তাই চায়।

তিনি বলেন, সবাই ইসিতে এসে নিজেদের অভিযোগ, পরামর্শ জানাচ্ছেন। এতে কমিশন সমৃদ্ধ হচ্ছে। ছোট সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে কমিশন। ইসি বড় সমস্যার সম্মুখীন এখনো হয়নি। রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আমরা খতিয়ে দেখছি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সব ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দ্বিতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ইসি। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২৮ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে।

তার আগে আজ মঙ্গলবারই প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে আগামীকাল বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনের ব্যালট পেপার মুদ্রণের জন্য গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেসকে মুদ্রণাদেশ প্রদান করা হবে।

নির্বাচন কমিশন জানায়, এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এ নির্বাচনে থাকছে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র, যাতে থাকবে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ। সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় প্রতি ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার গোপন কক্ষ (মার্কিং প্লেস) বাড়ানো হয়েছে।