বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিতে বর্তমানে এক নতুন মেরূকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান প্রধান ইসলামী দলগুলোর লক্ষ্য ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র’ বা ‘শরিয়াহ আইন’ প্রতিষ্ঠা হলেও সম্প্রতি কৌশলগত অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে শরিয়াহ আইন ইস্যুতে সৃষ্ট বাদানুবাদ ইসলামী রাজনীতির অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে ‘জামায়াতে ইসলামী শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না’—গত বুধবার দলটির আমিরের সঙ্গে দেখা করার পর গণমাধ্যমকে এমনটাই জানান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের মার্থা দাস। তারপরই শরিয়াহ আইনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এর আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজন প্রার্থীকে জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন দেয় জামায়াতে ইসলামী। ফলে ধর্মভিত্তিক দল হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি এমন বেশ কিছু পদক্ষেপে তাদের পক্ষ থেকে তুলনামূলক উদার মনোভাব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নেতাদের এসব বক্তব্যের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সে প্রশ্ন যেমন উঠছে, তেমনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে তা কৌশলগত অবস্থান কি না, সেই প্রশ্নও আসছে।
এদিকে কয়েক দিন আগে ইসলামী আন্দোলন অভিযোগ করেছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার পথ থেকে সরে গেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে দেওয়া কিছু বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘শরিয়াহ’ শব্দের চেয়ে ‘ন্যায়বিচার’ ও ‘মানবিক মর্যাদা’ এবং প্রচলিত আইনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনী প্রচার শুরুর অনেক আগে থেকেই দলটির দর্শন ও মতাদর্শে কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। অর্থাৎ শুধু নির্বাচন নয়, জামায়াতের গোটা রাজনীতির নতুন একটা অধ্যায় শুরু হয়েছে, সেই অধ্যায়টাই তারা চর্চা করবে। শিগগির একটি দূরদর্শী ও বাস্তবভিত্তিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াতে ইসলামী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে সর্বাধিক আলোচিত বিতর্কগুলোর অন্যতম হলো শরিয়াহ আইন। বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে রাজনীতিতে শরিয়াহ আইনের প্রয়োগ বা বর্জন নিয়ে প্রগতিশীল এবং রক্ষণশীল মহলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভেদ বিদ্যমান। এই বিতর্ক শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানবাধিকার, শাসনতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের সংজ্ঞাকেও প্রভাবিত করছে। অর্থাৎ শরিয়াহ আইনকে রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্নে প্রধানত তিনটি দিক থেকে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এক. গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব। দুই. বিচারব্যবস্থা ও দণ্ডবিধি। তিন. সংখ্যালঘু ও নারী অধিকার।
শরিয়াহ আইন কী: আরবি ভাষায় শরিয়াহ বলতে ‘পথ’ বোঝায়, যা আল্লাহকে খুশি করার লক্ষ্যে মানুষের জন্য অনুকরণীয় আচরণবিধি। শরিয়াহ বলবৎ হলে ব্যক্তি, মানুষ ও সমাজের সব ক্ষেত্র শরীয়তের অনুশাসন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। শরীয়তের আওতায় ব্যবসায়-বাণিজ্য, পারিবারিক আইন, নৈতিকতা, অপরাধ ও শাস্তি, দান-খয়রাতসহ সবই রয়েছে। প্রচলিত ধর্মনিরপেক্ষ আইনের চেয়ে এই ইসলামী শরীয়তের বিধানগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। আর ইসলাম ধর্মের প্রভাব ও রীতি অনুযায়ী মহান আল্লাহর আইনই চূড়ান্ত। ইসলামিক পণ্ডিতদের মতে, শরীয়ত হলো—
আল্লাহ ও তার রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর দিকনির্দেশনার সমষ্টি। অর্থাৎ শরীয়তের প্রধান বা মৌলিক উৎস দুইটি-- আল্লাহর বাণী কুরআন ও তার রাসুল হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি (সুন্নাহ)। পরবর্তী সময়ে কোরআন ও সুন্নাহর স্বীকৃতি ও নির্দেশনার ভিত্তিতে শরীয়তের আরও দুটি বিষয় নির্ধারিত হয়। এগুলো হলো—ইজমা ও কিয়াস। সুতরাং, শরীয়তের উৎস চারটি।
ইন্টারনেটের তথ্য বলছে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শরিয়াহ আইন ব্যবহার করে। দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সুদান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ব্রুনাই।
শরিয়াহ আইন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক: গত বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির ডা. আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির মহোদয়ের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। উনি যে আশ্বাসগুলো দিয়েছেন, সেটাই আবার আমি একটু রিপিট করতে চাই। যেটা তিনি জাতির উদ্দেশে বলেছেন সেটা হলো, যদি মহান সৃষ্টিকর্তা ওনাদের এই দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে এই বাংলাদেশে শরিয়াহ ল অর্থাৎ শরিয়াহ আইন তিনি বাস্তবায়ন করবেন না।’
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রতিনিধি দলের মূল প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্র পরিচালনা বা সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে জামায়াত কোন আইনে দেশ চালাবে? অনেকে জিজ্ঞেস করেন যে শরিয়াহ আইনে না অমুক মডেলে তমুক মডেলে। ফলে আমিরে জামায়াত বলেছেন, বাংলাদেশে যে বিদ্যমান আইন সে আইনেই বাংলাদেশ চলবে, যেখানে সব ধর্মের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা হবে। এবং এই আইনটাই যথেষ্ট এখন।’ তিনি আরও জানান, জামায়াতের আমির সেদিন বলেছিলেন আমাদের সংবিধান এবং বিদ্যামান যে আইনি কাঠামো আছে, সেখানে সব নির্দেশনা আছে। বাংলাদেশ এই বিদ্যমান আইন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হবে।
এ ছাড়াও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পরে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত বুধবার আমিরে জামায়াতের বক্তব্য উল্লেখ করে একটি ফটোকার্ড আমাদের নজরে এসেছে, যেখানে তার বক্তব্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। ওই ফটোকার্ডে আমিরে জামায়াতের বক্তব্যের সঙ্গে মার্থা দাসের একটি বক্তব্যকে টুইস্ট করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তব বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং জামায়াত আমিরের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং জনগণের মতামত ও সম্মতি ছাড়া কোনো আইন পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রশ্নই আসে না। তিনি সংবিধান, আইনের শাসন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সব নাগরিকের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অতএব, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নাম একাধিকবার যেমন পরিবর্তন হয়েছে, তেমনই নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটির গঠনতন্ত্রেও বহুবার সংশোধন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রে ‘ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা’-এর পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ সংবলিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে তাদের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে তাদের গঠনতন্ত্রে ‘আল্লাহ-প্রদত্ত ও রসুল-প্রদর্শিত ইসলাম কয়েমের প্রচেষ্টা’কে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা বাদ দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা’র কথা বলা হয়। সর্বশেষ তারা গঠনতন্ত্রের ২২তম সংশোধনী আনে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। জামায়াতের গঠনতন্ত্রে লক্ষ্য উদ্দেশ্য হিসেবে বলা আছে, ‘বাংলাদেশে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’।
এদিকে গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, জামায়াতের আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। অথচ দেশের সব মানুষ একমত যে দেশের বর্তমান দুর্দশার কারণ বিদ্যমান আইন। সেই বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করার জন্যই আমাদের রাজনীতি। এখন যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে তাহলে আমরা শঙ্কিত হই। আমরা নীতির রাজনীতি করি। আমাদের রাজনীতির সেই মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্নমত তৈরি হয়, তখন তাদের সঙ্গে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নেই।’
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ১৩ মার্চ বিভিন্ন ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের যৌথ প্রয়াসের ফলে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যপ্রয়াসী একটি ইস্যু ভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’ নামে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে অনৈক্য ও ভাঙনের ফলে এটি চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে একটি একক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। মূল ১৯৯১ সাল থেকে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০০৮ সালে নিবন্ধন জটিলতায় এর নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয় এবং হাতপাখা প্রতীক লাভ করে। দলটির স্লোগান হচ্ছে ‘শুধু নেতা নয়, নীতিরও পরিবর্তন চাই।’
বিতর্কের কারণ: জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারা নিজেদের একটি ‘আধুনিক মডারেট’ দল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। দলটির কিছু নেতা বলছেন, আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ চাই। ইসলাম মানেই কেবল শাস্তি (হুদুদ) নয়, বরং নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা। অন্যদিকে এই অবস্থানকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘আদর্শিক চ্যুতি’ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, শরিয়াহ আইনের কথা সরাসরি না বলা মানেই হলো সেকুলার রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়া।
এই বাদানুবাদের পেছনে কেবল আদর্শিক নয়, বরং কৌশলগত কিছু কারণও রয়েছে। বিশেষ করে ভোটের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা ইত্যাদি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক শিক্ষিত তরুণদের কাছে শরিয়াহ আইনের প্রচলিত ধারণা অনেক সময় ভীতি সৃষ্টি করে, যা এড়াতে ভাষা ও কৌশলে পরিবর্তন আনছে দলগুলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা অনেক সফট কথাবার্তা বলছে এবং তারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবার জন্য অনেক কিছু বলছে, যাতে মনে হচ্ছে তারা অনেকটা উদার হয়ে গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের কৌশল নেওয়া তো অস্বাভাবিক কোনো ব্যাপার না। কারণ দলটি নিয়ে মানুষের যে দৃষ্টিভঙ্গি (পারসেপশন) আছে, তা কাটাতেই হয়তো তারা এসব কথাবার্তা বলছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতিতে শরিয়াহ আইনের বিতর্কটি এখন আর কেবল ‘ধর্মীয়’ নেই, এটি এখন ‘পরিচয় ও কৌশলের’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। জামায়াত যেখানে কৌশলগত নমনীয়তা দেখাচ্ছে, ইসলামী আন্দোলন সেখানে নিজেদের ‘আপসহীন’ ইসলামী শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে শরিয়াহ আইন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের এই প্রকাশ্য বিতর্ক বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনীতির মোড় পরিবর্তন করতে পারে। জামায়াত যদি শেষ পর্যন্ত শরিয়াহ আইনের দাবি থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেয়, তবে তা দেশের ইসলামপন্থি ভোটারদের মধ্যে একটি বড় প্রভাব তৈরি করবে এবং চরমোনাই পীরের দলের জন্য একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।