আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির ২০তম বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।সারাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সাধারণ ভোট কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি।
ত্রয়োদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন এই বাহিনির সদস্যরা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে এই প্রথম ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের অংশ হিসেবেই এই বিশাল বাহিনী ও আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্ব সক্রিয় থাকবে ডগ স্কোয়াডও। নিরাপত্তা নিয়োজিত সদস্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রথম পর্বে যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ, আনসার-ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং র্যাবের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এ সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। এছাড়াও প্রতিটা ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিচালনা— সবকিছুর সমন্বয় থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ২০০টি, নৌ-বাহিনী কর্তৃক ১৬টি, বিজিবি কর্তৃক ১০০টি, বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক ৫০টি, কোস্ট গার্ডের ২০টি, র্যাবের ১৬টি ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৬টি ড্রোন পরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে ব্যহবহার করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য জরুরি পরিষেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ওই টিম নির্বাচনসংক্রান্তু প্রাপ্ত অভিযোগ/তথ্যের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এলাকাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পাঠাবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থাপিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা বিবেচনায় পুলিশ ও আনসার ভিডিপির পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যা ব মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচনকালীন জেলা ও উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাভিত্তিক অভিযান এবং চেক পয়েন্ট (তল্লাশিচৌকি) অভিযান পরিচালনা করবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১ লক্ষ, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ৫ হাজার, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ-১ হাজার ২৫০), বাংলাদেশ পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র্যা ব ৭ হাজার ৭০০, এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ১৩ হাজার ৩৯০ জন সর্বমোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে যে, এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।