Image description
 

নবম পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা তিন হাজার ৫০০ টাকা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে পে-কমিশন। আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে-কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলে দুই ক্যাটাগরিতে চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে যে সকল চাকরিজীবীর বয়স ৪০ বছর কিংবা তার কম তাদের প্রতি মাসে চার হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। আর দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি তাদের পাঁচ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করবে কমিশন।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পে-কমিশনের এক সদস্য দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘তরুণদের চেয়ে বয়স্কদের চিকিৎসা ভাতা কিছুটা বেশি করার সুপারিশ করা হচ্ছে। বয়স্কদের ঔষধ কিনতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়। এজন্য তাদের ভাতা কিছুটা বেশি করার সুপারিশ করা হচ্ছে। অবসরের পর একজন সরকারি চাকরিজীবী মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করেই চিকিৎসা ভাতা পাবেন।’

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নবম গ্রেডে একজন বিসিএস কর্মকর্তা পান ২২ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকার মধ্যে।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে অর্থের সংস্থান রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মূল বেতন বা ভাতার যেকোনো একটি জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তবে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, সুদের উচ্চ ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে পে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশন একটি শক্ত প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে বাস্তবায়ন একটি ভিন্ন ও কঠিন বিষয়।