আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বড় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অনুদানের মাধ্যমে তারা নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ অনলাইন ডোনেশন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রমের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ক্রাউড ফান্ডিং প্রক্রিয়া এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।
ফরহাদ সোহেল বলেন, প্রতিটি প্রার্থীর পোস্টারের মধ্যে একটি করে কিউআর কোড সংযুক্ত থাকতে পারে। যদি কেউ কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে (যেমন- নাহিদ ইসলাম) সরাসরি অনুদান দিতে চান, তবে তিনি কেবল ওই কিউআর কোডটি স্ক্যান করে তা করতে পারবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রত্যেক প্রার্থী এই ডোনেশনের মাধ্যমে কত টাকা পেলেন এবং রাজনৈতিক প্রয়োজনে তা কীভাবে খরচ করছেন, তার একটি স্বচ্ছ চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা সম্ভব। প্রার্থীরা যেন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, সেটাই লক্ষ্য। আমরা এমন কোনো প্রার্থী চাই না যারা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি হয়ে কিংবা জোর-জবরদস্তি করে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা প্রদান ও বাতিলের বর্তমান কার্যক্রমকে নাটক অভিহিত করে তিনি বলেন, সেখানে হাজার কোটি টাকার জলসা বসিয়ে প্রচুর ঋণ খেলাপিদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমরা চাই না যে আমাদের কোনো প্রার্থী এমন কোনো অনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আগামী সংসদে যাক। মূলত একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়াই এই ক্রাউড ফান্ডিং উদ্যোগের মূল প্রেরণা।
এ সময় এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ জানান, নীতিগতভাবে তারা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অনুদান গ্রহণ করছেন না। এতে রাজনৈতিকভাবে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা বা ‘বাইন্ডিংস’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। সেই কারণে সাধারণ মানুষের ১০ বা ১০০ টাকার মতো ক্ষুদ্র অনুদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ক্ষুদ্র অংশগ্রহণই রাজনৈতিক কার্যক্রমের মূল শক্তি হয়ে উঠবে এবং দলকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখবে।
অনুদান প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে এনসিপি একটি বিশেষ ওয়েব প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যে কেউ অনুদান দিতে পারবেন বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ঝামেলা ছাড়াই স্বচ্ছভাবে অর্থ প্রদান করতে পারেন এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।