রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সেই সঙ্গে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের কাছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় তাঁরা ‘আম্মারের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’,‘পাগলের ঠিকানা, পাবনা পাবনা’ স্লোগান দেন।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী), সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান (সোহাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান (মিঠু), রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন।
শাকিলুর রহমান বলেন, একজন পাগল তারুণ্যের উন্মাদনার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা-তা করে বেড়াচ্ছে। আমি বলতে চাই, তারুণ্যের উন্মাদনা আর মানসিক বিকার এক নয়।
সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুস্থ রাখার জন্য খোদার কসম, ধৈর্য ধরে আছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মানসিক চিকিৎসা প্রদান না করা হয়, আমরা ধরে নেব এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আমাদের বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, আমাদের এই ব্যানার ছিঁড়ে জাতীয়তাবাদী দলকে নিঃশেষ করা যাবে না। যেভাবে সে ব্যানার হাতে নিয়ে ছিড়ে ফেলে দিল, এতে আমাদের হৃদয় আজকে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। আমি আজ অত্যন্ত মর্মাহত। তার এই ন্যক্কারজনক কাজের জন্য ছাত্রদলের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং মনোবিদ থাকা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা ও নিয়মিত পরিচর্যার ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, যিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও আচরণগত জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, উপযুক্ত ও নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শের অভাবে তাঁর আচরণে অসংগতির প্রকাশ ঘটছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন শিক্ষার্থীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত বলে তাঁরা মনে করেন।
সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হোক। সেই সঙ্গে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বৈষম্য যেন না ঘটে, সে বিষয়েও সদয় দৃষ্টি কাম্য। তাঁরা বিশ্বাস করেন, উপাচার্যের বিচক্ষণ নেতৃত্বে বিষয়টি মানবিকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন সালাহউদ্দিন আম্মার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরের সামনে প্যারিস রোডে গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আম্মার তাঁর ফেসবুক পোস্টে জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদারকে বেলা দুইটার আগে ব্যানার খুলে নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন।
শীর্ষনিউজ