ফরিদপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব ১০ এর অভিযানে ১১৮ কেজি ওজনের বিশাল একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। এ সময়ে পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ মধ্যপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় বুড়াইচ মধ্যপাড়ার বাসিন্দা আকবার মোল্লার ছেলে সাদ্দাম মোল্লার বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা একটি পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে পুকুর থেকে প্রায় ১১৮ কেজি ওজনের একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। মূর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে সাদ্দাম মোল্লাকে আটক করে র্যাব। পরে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলফাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বুড়াইচ গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে তল্লাশি চালায়। সেখানে লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় বিশাল আকৃতির এই কষ্টিপাথরের মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার সাদ্দাম ওই গ্রামের আকবর শেখের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চুরি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মূর্তি উদ্ধারের বিষয়ে র্যাব-১০- ফরিদপুর এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তি মূর্তিটি উচ্চমূল্যে বিক্রি ও পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মূর্তিটি ৩ কোটি টাকায় বিক্রির পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন এবং এটি ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে কিনেছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানাসহ সারাদেশে মাদক, চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৭/৮টি মামলা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মূর্তির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব আইন অনুযায়ী, এ জাতীয় প্রাচীন প্রত্নসম্পদ ব্যক্তিগত মালিকানায় রাখা বা কেনা-বেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।