Image description

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে চারটি আসন জামায়াতকে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি আসন রাখা হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জন্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন আসনে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ–তাড়াশ) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুর রউফকে। তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা যায়।

অন্যদিকে, একই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ভিপি আয়নুল হক।

বাদ পড়লেন দীর্ঘদিনের প্রার্থী, গত দেড় বছর ধরে এ আসনে প্রচার–প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও দলীয় মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর শায়খ ড. আব্দুস সামাদ। জোটের চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

রায়গঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা মো. ওলিউল্লাহ বলেন, বিএনপি ও জামায়াত উভয় দল মাঠে থাকলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা ছিল। তাঁর মতে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রার্থী নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতার পাশাপাশি স্থানীয় পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হলে এলাকার উন্নয়ন সহজ হয় বলে তিনি মনে করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক কর্মী ও সমর্থক জানান, ড. আব্দুস সামাদ এ আসনে জয়ের সম্ভাবনাময় প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের দাবি, জোটের প্রার্থী পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা।

উল্লেখ্য, এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ও বিএনপির পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।