ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনটি বর্তমানে দেশের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই আসনে এবার বইছে ভিন্ন হাওয়া। নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা, তবে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান।
২০০৮ সালে পরিবর্তিত সীমানায় সৃষ্ট এই আসনটিতে পূর্বের সকল নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একক দখলে ছিলো। তবে আগের সীমানায় আসটি থেকে বিএনপি একবার প্রতিনিধিত্ব করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো দল নূন্যতম ভোটের লড়াইও এখানে করতে পারেননি।
তাই এই আসনে জামায়াত আমীরের মনোনয়ন দাখিল করাকে অনেক বিশ্লেষক ‘রাজনৈতিক ঝুঁকি’ হিসেবে দেখছেন। যেখানে অন্য দলের প্রধানরা নিরাপদ আসন খোঁজেন, সেখানে ডা. শফিকুর রহমানের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ডা. শফিকুর রহমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান,গণফোরামের এ. কে. এম. শফিকুল ইসলাম, জনতার দলের খান শোয়েব আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. আশফাকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির মো. সামসুল হক।
এদিকে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় যেসকল প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তারাও করেছেন আপিল। কিন্তু ভোটারদের মন জয় করে নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কে? আরটিএনএন থেকে মিরপুর ও কাফরুল থানার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে নির্বাচনী হালচাল জানার চেষ্টা করা হয় ভোটারদের থেকেই।
১৩ নাম্বার ওয়ার্ডের ভোটার মো. সবুজ ইসলাম বলেন, জামায়াতের আমির মাঝেমাঝেই মিরপুরে আসেন এবং মসজিদ ভিত্তিক প্রচারণায় তিনি নিয়মিত অংশ নেন, অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে তেমন একটা দেখা যায়নি। তবে ডা. শফিকুর রহমানের অবস্থান ভালো।
তিনি বলেন, যদি জামায়াত সরকার গঠন করে এবং ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কোনো বড়ো দায়িত্ব নেন, তাহলে ঢাকা-১৫ নিয়ে আলাদাভাবে কোনো কাজ করার সময় পাবেন কি না, এটা চিন্তার বিষয়।
স্থানীয় চায়ের দোকানে বর্তমানে সর্বাধিক আলোচিত বিষয় ‘নির্বাচন’, সেখানেই কথা হয় ১৪ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইমরান কাজীর সাথে। যিনি মনে করছেন, জামায়াতের আমির এই আসনটিতে উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য যোগ্য মুখ। আর জামায়াতে ইসলামীর সরকার গঠনের সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। তিনি ইতিপূর্বে বিএনপি সমর্থক ছিলেন এবং অনেক দলের শাসনামল দেখেছেন। এবার তিনি নতুন কোনো দলকে দেখতে চান, সে খাতিরেই তিনি জামায়াতের আমিরকে তার ভোট দিবেন। তবে বিএনপি যদি সরকার গঠনও করে তিনি আশাবাদী তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান একসাথেই দেশ পরিচালনা করবেন।
এরইমাঝে কথা হয় হাসিনা বেগম নামে একজন নারীর সাথে, যিনি ১৩ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা, তিনি বলেন, আমরা মহিলারা এবার ইসলামের পক্ষেই ভোট দিবো, আমি ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন বাড়িতে আমিরের পক্ষে গণসংযোগ করছি। প্রতিটি হোল্ডিংয়ে যাচ্ছি, মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।
কথা হয় তেজগাঁও কলেজ পড়ুয়া ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডের একজন তরুণ ভোটার মো. আদনান মনে করছেন- জামায়াতের সাথে এনসিপির জোটের কারনে জামায়াত এখন পূর্বের তুলনায় অনেক শক্তিশালী এবং তরুন ভোটারদের মনোযোগ কাঁড়তে সক্ষম হয়েছে। তবে তিনি বিএনপি প্রার্থী মিল্টনকেও সমানভাবে এগিয়ে রাখছেন, মিল্টন নতুন ভোটারদের নজর কাঁড়তে যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। সুন্দর লড়াই হবে বলে তিনি মনে করছেন।
মিরপুর-১০ এর দুজন ব্যবসায়ীর মতে বিএনপি-জামায়াত ভাই ভাই, তারা উপরে উপরে বিরোধিতা করলেও অন্তরে অন্তরে তারা এক। তারা অতীতে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। বর্তমানেও ব্যবসা করতে তাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আগেই তারা ভালো ছিলেন বলে মন্তব্য করেন।
এ ছাড়াও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, যুবক ও ছাত্রদের সাথে কথা বলে ঢাকা-১৫ এর অবস্থান জানার চেষ্টা করা হয়।
অধিকাংশ ভোটারদের মতে, ভোটের আগমুহূর্ত পর্যন্ত ফলাফল ধারণা করা মুশকিল। কেননা ভোটের ব্যাপারে উন্মুক্ত আলোচনা এখন আর তেমন কেউ-ই করছেন না, সবাই চুপচাপ হয়ে আছেন। নীরব ভোট বিপ্লবের আশাবাদী সবাই।