Image description
জোটের ভোটে আরও চমক

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গতকাল অষ্টম দিনে ৪৪ প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি একই আসনের এনসিপি প্রার্থী মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থিতা হারান। তবে হাসনাতের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাসনাতের প্রার্থিতা বহাল রাখেন। এ নিয়ে আট দিনে শুনানিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ প্রার্থীর প্রার্থিতার পথ খুলে দিয়েছে। গতকাল শতাধিক আবেদনের শুনানি করা হয়। শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি উপস্থিত ছিল। ইসি জানায়, গত আট দিনে প্রায় ৬০০ আপিল শুনানি হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে আপিল শুনানির কথা রয়েছে। আজ ১৮ জানুয়ারির মধ্যে ৬৪৫টি আপিল নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য রয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, গতকাল ১১২ আবেদনের শুনানি হয়। এর মধ্যে ৩৭টি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। ৪৫টি মঞ্জুর হয়েছে। পেন্ডিং ১৯টি আবেদন। ৯টি আবেদন প্রত্যাহারের কারণে উত্থপিত হয়নি। ২টি আপিলের আবেদনকারী অনুপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেইসি। গতকাল বিকালে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয় ইসি।

?এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসিতে আবেদন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। এখন তাঁকে হাই কোর্টে যেতে হবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে। একই আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে ইসি। গতকাল আপিল শুনানি নিয়ে তাঁর প্রার্থিতা বহাল রাখে ইসি। সম্প্রতি কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি একই আসনের এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামালপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী ফারজানা ফরিদ। গাজীপুর-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন জনতার দলের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম সীমান্ত। প্রার্থিতা ফিরে পেলেন খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।

লালমনিরহাটে ৭ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল বাদশা মিয়ার : সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-২ আসনে আট প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ বলে ঘোষণা করেন। তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করেন বিএনএফ প্রার্থী বাদশা মিয়া। গতকাল আপিল শুনানিতে বাদশা মিয়াসহ অন্য সাত প্রার্থী ইসিতে হাজির হন। সেখানে ওই সাত প্রার্থীকেই বৈধ ঘোষণা করে ইসির আপিল বিভাগ। শুনানি শেষে প্রার্থীদের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন রেজা জানান, নানা ধরনের ভুয়া অভিযোগ এনে লালমনিরহাট-২ আসন থেকে চক্রান্ত করে বাদশা মিয়া অন্যায়ভাবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য সাত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের জন্য ইসিতে আপিল করেন। যা দেশের কোথাও কে নো দিন ঘটেছে বলে জানা নেই। এ ধরনের হয়রানির জন্য তাঁরা আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বাদশা মিয়াকে ১ কোটি টাকা জরিমানা দাবি জানান। যে সাতজনের বিরুদ্ধে বাদশা মিয়া আপিল করেন তাঁরা হলেন নিমাই চন্দ্র রায়, মো. এলাহান উদ্দিন, ফিরোজ হায়দার, রোকনুদ্দীন, শামীম কামাল, মাহফুজর রহমান ও মমতাজ আলী। এই সাতজনকে বৈধ বলে ঘোষণা করেছে ইসি।

অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে কোর্টে কোটি টাকার মানহানি মামলা করব।’