বাউফল আসনে ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা—এ নিয়ে মুখ খুলছেন না সাধারণ ভোটাররা। তবে নারী ভোটাররা কেউ কেউ মুখ খুললেও ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলছেন। আবার যেসব ভোটার সরাসরি কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন, তারা বলে দিচ্ছেন—অমুক মার্কায় ভোট দেবো।
বাউফল আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৬১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২ জন। বলতে গেলে পুরুষ ভোটারের প্রায় সমান। আর এই নারী ভোট যে প্রার্থী বেশি পাবেন, তিনিই বাউফলের এমপি হবেন।
তরুণ ভোটারদের পছন্দ আবার আলাদা। নারী ও তরুণ ভোটার এক দিকে অগ্রসর হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান হবে অনেক।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল আলম তালুকদার। মূলত তিনিই প্রথম বিএনপিকে এ আসনটি উপহার দেন। একসময়ে এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
অপরদিকে, এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়বেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সারা দেশের মানুষ তাকে এক নামে চেনে। তিনি একজন ভালো বক্তা। বয়স ৪৭ বছর। বিনয়ী মেজাজের এবং হাসিখুশি মানুষ তিনি। এ কারণে বাউফলের মানুষের মনে সহজেই স্থান করে নিয়েছেন। সব বয়স ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে পছন্দ করে। কেউ কেউ তাকে বিপদের বন্ধু বলে ডাকেন। কেউ বিপদে পড়লে সব ধরনের সহায়তা নিয়ে পরম মমতায় পাশে দাঁড়ান তিনি।
এ ছাড়া বিভিন্ন দলের আরও ৪ জন এমপি প্রার্থী রয়েছেন। তারা কেবল নামেই প্রার্থী হয়েছেন। প্রচার-প্রচারণায় তারা সরগরম নন। এলাকার মানুষও তাদের তেমন চেনে না। এলাকার মানুষ প্রার্থী হিসেবে মূলত শহীদুল আলম তালুকদার ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকেই চেনেন। এই দুই প্রার্থীর একজন নবীন, অন্যজন প্রবীণ। লড়াই হবে নবীন ও প্রবীণের মধ্যে।
তবে সব জায়গায় আলোচনা—কোন প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হবে, ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা?