চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী বেনজীরের ক্যাশিয়ার খ্যাত জসিম উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুই জুলাইযোদ্ধার উপর হামলার অভিযোগ ওঠেছে। আহত অবস্থায় তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এরা হলেন, দক্ষিণ জেলা এনসিপির সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মঈন উদ্দিন মাহিন।
গত শুক্রবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে মহাসড়কের বদুরপাড়া পেট্রোল পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠেছে, বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থানা থেকে যাওয়ার পথে তার অনুসারীরা এ হামলার ঘটনা ঘটায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন রাহাত জানান, শুক্রবার রাত ১১টায় সিএনজিচালিত টেক্সিযোগে বাড়ি ফিরছিলেন জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিন। একইদিন সন্ধ্যায় তারা চন্দনাইশ থানায় একটি অভিযোগ করে জসিম উদ্দিনের নামে। ফেরার পথে বদুরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এসময় তারা কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং ছুরিকাঘাত করে। প্রথমে তাদেরকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জুলাই যোদ্ধা মঈন উদ্দিন মাহিন বলেন, আমরা শুক্রবার রাতে তিনজন জুলাই যোদ্ধা চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করি। এর আগে আমরা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে সম্মেলন করেছি। তিনি স্বৈরাচারের চিহ্নিত দোসর। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে হামলার মামলা রয়েছে। মনোনয়নপত্রেও বিভিন্ন তথ্য গোপন করেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আমরা বক্তব্য তুলে ধরার পর আমাদের নানা ধরণের হুমকি দেওয়া হয় জসিমের লোকজনের পক্ষ থেকে। সেজন্য আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু ফেরার পথে আমাদের উপর তার লোকজন হামলা করে।
এদিকে শনিবার দুপুরে নগরের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ডেকে অনুষ্ঠানস্থলে আসেননি বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ। শনিবার দুপুর সাড়ে এগারোটায় নগরীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা ওই রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হন। তবে বেলা বারোটায়ও সেখানে জসিম উদ্দিনকে দেখা যায়নি। বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি রিসিভি করেননি। তার পক্ষে এক ব্যক্তি এসে জসিমকে অসুস্থ বলে দাবি করলেও পরে মুঠোফোনে জসিম উদ্দিন নিজেই জানিয়েছেন তিনি সুস্থ।
জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে জসিম উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এম এ হাশেম রাজু বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিঠি দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে শনিবার দুপুরে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। এতে একজন রিপোর্টার ও একজন ফটো জার্নালিস্ট পাঠানোর অনুরোধ করেন প্রার্থী জসিম উদ্দিন।
শনিবার দুপুর ১২টায় ওই রেস্টুরেন্টের ফটকে সাংবাদিকদের সাথে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মতবিনিময়টি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো উল্লেখ করে একটি নোটিশ টাঙানো হয়।
এসব বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, গত শুক্রবার রাতে আমাদের এলাকায় এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী আমার বিরুদ্ধে একটি অপপ্রচার চালায়। আমি কোন হামলার সাথে জড়িত নয়। ঘটনাটি হ্যান্ডেল করতে হয়েছে আমাকে। সে কারণে মতবিনিময় সভায় আসতে পারিনি। আমি সম্পুর্ণ সুস্থ আছি। এর আগে শুক্রবার চন্দনাইশের একটি মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে ধানের শীষে ভোট চাইতে দেখা যায় জসিম উদ্দিনকে। এছাড়াও মনোনয়ন পাওয়ার পরপর জসিমকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তার সাথে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে। কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে পাঁচ তারকা হোটেল রামাদায় বেনজীর ও জসিমের শেয়ার থাকার কারণে তাকে বেনজীরের ক্যাশিয়ার হিসেবেও চেনেন সকলে।
চন্দনাইশ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ইলিয়াছ খান বলেন, আমরা দুই জুলাই যোদ্ধার উপর হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছি। তবে কারো পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আসনটির সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. রাজিব হোসেন জানান, মসজিদে ধানের শীষের প্রচারণা চালানোর অভিযোগ ওঠেছে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। যা নির্বাচনি আচরণবিধিমালার লঙ্গন। এলডিপি থেকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেটি পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। তিনি আরো বলেন, আচরণবিধিমালায় উল্লেখিত সময়ের আগে সভা-সেমিনার, সমাবেশ করার নিয়ম নেই। যেকোন প্রার্থী কারো কাছে ভোট চাইতে পারবেন না এই সময়ে।