প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেছেন, ‘অনেকে এসে বলবে, আওয়ামী লীগের ভোটাররা কেন্দ্রে এসে কী করবে? আওয়ামী লীগের ভোটাররা এসে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে।’ শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় শফিকুল আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকেরা তো তাদের সাড়ে ১৫ বছরে ভোট দিতে পারেনি। তাদের হয়ে পুলিশ ভোট দিয়ে দিয়েছে। এ জন্যে আমরা বলি, খুব ভালো ভোট হবে। আমাদের যারা বিদেশি বন্ধু আছেন, তারাও কিন্তু মুখিয়ে আছেন এই নির্বাচন নিয়ে। তারাও বলছেন যে, খুব ভালো নির্বাচন হবে। তারা এই সরকারের প্রতি আত্মবিশ্বাসী ভালো একটা নির্বাচনের বিষয়ে। যত ধরনের সাপোর্ট লাগে তারা আমাদের দিচ্ছেন। কেউ কিন্তু নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কথা বলেননি।
‘সংশয়ের কথা আসতেছে কোথা থেকে? ইউটিউব থেকে, টিকটক থেকে। কিছু লোক আছে না, বেশি ভিউ কামানোর জন্য “আরে দেখেন না ইলেকশন হয় কিনা?” এই টাইপের কথা বলে। নির্বাচন ভালোভাবেই হবে। ইনশাআল্লাহ কারও সাধ্য নেই এই নির্বাচনকে বানচাল করার।’
নির্বাচনে বিদেশি কোনও চাপ নেই উল্লেখ করে প্রধান উপদেস্টার প্রেস সচিব বলেন, অংশ গ্রহনমূলক নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক কোনও চাপ নেই। কেউ এসে বলছে না, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিয়ে আসার জন্য। আওয়ামী লীগ যে গুম, খুন, ভয়ানক ডাকাতি রাজ্য কায়েম করেছিল, সেটা তো পুরো পৃথিবীবাসী জানে। তাই তাদের হয়ে কেউ এসে বলছে না যে, তাদের একটু নির্বাচনে সুযোগ দিন। হয়তো-বা বলতো? বলার সুযোগ তো, আওয়ামী লীগই রাখেনি। আওয়ামী লীগের কেউ এসে কি ক্ষমা চাচ্ছে। কেউ অনুতপ্ত হচ্ছে। বরং ওরা বলছে যে, তিন হাজার পুলিশকে কারা মেরেছে? আর যারা আন্দোলন করলো, আন্দোলন তো একটি-দুটি ছেলেমেয়ে করেনি। মেয়েরা ছিল সামনের সারিতে। অথচ বলা হচ্ছে, যারা যারা নেমেছে, তারা নাকি সবাই জঙ্গি। আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা পুরো বাংলাদেশের সবাইকে জঙ্গি বলছেন। পৃথিবীর কে আছে যে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে?’
মতবিনিময় সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন– সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লাসহ সিনিয়র সাংবাদিক মো. আরজু, পীযূষ কান্তি আচার্য, আল আমীন শাহীন, বিশ্বজিৎ পাল বাবু, যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন কুমার দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনায় ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ।