Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চরমোনাই পীরসাহেবের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্ম-মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, নীতি ও আদর্শগত কারণে তারা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিং শুরুর আগে কার্যালয়ে সাংবাদিক, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে গঠিত ‘ওয়ান বক্স’ ফর্মুলায় ১১টি দল একত্রে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা থাকলেও আগের দিন জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্যান্য দল একত্রে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপস্থিত ছিল না।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা নীতি-আদর্শের রাজনীতি করি, ক্ষমতার রাজনীতি করি না। তবে নীতি ও রাজনৈতিক প্রশ্নে বৈরিতার শিকার হওয়ায় মনোনয়ন দাখিল করা ২৭০ আসনের মধ্যে ২৬৮ আসনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।

তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট ৩২টি আসনে যদি সমমনা ও আদর্শিক কোনো দলের প্রার্থী থাকে, তাদের সমর্থন দেয়া হবে। তবে জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো অবস্থান দেননি। এছাড়া দু’দলের আদর্শগত অমিলের কথাও তুলে ধরেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে যুগ্ম-মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কে. এম. আতিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ্ ইফতেখার তারিখ, দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসেন জাফরী এবং প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মা’রুফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে দলের আমির বা নায়েবে আমির পর্যায়ের কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ওয়ান বক্সের নীতি চলমান আছে। আমরা ইসলামের মধ্যেই আছি। যোগ্যতাই নির্ধারণ করবে, কে আমাদের সঙ্গে থাকবে। নির্বাচনে যদি কোনো সমস্যা হয়, আমরা ৩০০ আসনের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না।

দলটির এই নতুন কৌশল রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয়তা বাড়াতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলবে কিনা তা এখন দেখার বিষয়।