Image description

নির্বাচন নিয়ে কোনো চাপ নেই এবং আওয়ামী লীগকে ভোটে নিয়ে আসার জন্যও কেউ বলছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ভোটে নিয়ে আসার জন্যও কেউ বলছে না। হয়তোবা বলত, আওয়ামী লীগ কি বলার সুযোগ রেখেছে? তারা কি সরি বলেছে? তারা যে গুম, খুন করেছে সেটা তো সারা পৃথিবী জানে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকরাও তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। আওয়ামী লীগের লোকরাও কি সাড়ে ১৫ বছর ভোট দিতে পেরেছে? তারা তো ভোটও দিতে পারেনি। তাদের ভোট পুলিশ দিয়ে দিয়েছে।’

প্রেসসচিব শফিকুল আলম গণভোট নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাদের জানার পরিধি কম বলেও মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুরো পৃথিবীতেই সরকার গণভোট নিয়ে পক্ষ নেয়। কখনো হ্যাঁ-এর পক্ষ নেয় কখনো না।’

 

শফিকুল আলম শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন। তিনি আখাউড়া খড়মপুর এলাকার শাহ সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ (র.) প্রকাশ খরমপুর মাজার শরীফ জিয়ারত করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

তিনি তিতাস নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। বিকেলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

আখাউড়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা তো সংস্কারের পক্ষে, দেশের অপশাসন দূর করতে হবে। শেখ হাসিনার মতো যেন আর দৈত্য-দানব না হয় সেজন্য ‘হ্যাঁ’ দিতে বলছি। চুরি-চামারি বন্ধ করতে হলে হ্যাঁ ভোটের পক্ষ নিতে হবে।

কারণ আপনারা দেখেছেন যে, তারা (বিগত সরকার) ব্যাংকের টাকা চুরি-চামারি করে চেটেচুটে খেয়ে গেছে। এখন এটার দায়িত্ব এসে পড়েছে বর্তমান সরকারের ওপর।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসসচিব আরো বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন খুব ভালোভাবে হবে। গতকালও কেবিনেট মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে কি ধরনের প্রস্ততি আছে। এবার ফ্রি, ফেয়ার, পিসফুল উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। যত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেটা করা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রস্তুতি শেষ। রিটার্নিং, পোলিং অফিসারসহ অন্যান্য কার্যক্রমও শেষ। আমরা ওয়েট করছি ভোটের।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়টিই প্যাকেজ আকারে হ্যাঁ ভোটে এসেছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা আসছে ইউটিউব, টিকটক থেকে। কিছু লোক আছে যারা ভিউ কামানোর জন্য এটা করছে। আমি বলব যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা একেবারেই অমূলক।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কি পারে তা আমরা নভেম্বর মাসে দেখেছি, তাদের নেত্রীর যখন বিচারের রায় হলো, তার আগেও যখন হরতাল হলো। তারা দুই-একটা ককটেল মারতে পারে। গির্জায় ককটেল মারে, বাসে ককটেল মেরে আগুন দিয়ে একজনকে মেরে ফেলে।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এর বাইরে তারা আর কি করতে পারে। তার কি মিছিল ডাকতে পারে। তাদের মিছিলে কেউ যায়। যারা ডলার নিয়ে গেছে তারা কি আবার ডলার খরচ করে মিছিল করাবে। তারা জানে যে তাদের নেত্রী আর আসতেছে না।’

আখাউড়ায় মাজার জিয়ারতের সময় প্রেসসচিবের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ-উল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদসহ মাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সহসভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত, মোহাম্মদ আরজু, মঞ্জুরুল আলম, এমদাদুল হক, আল-আমীন শাহীন, পিযূষ কান্তি আচার্য্য, মফিজুর রহমান লিমন, নজরুল ইসলাম শাহজাদা, বিশ্বজিৎ পাল বাবু, শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদৎ হোসেন, ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ।