কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর গোলাগুলি ও পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে সাধারণ নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা আফনান (৯) বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুশয্যায় রয়েছে। অন্যদিকে, সোমবার সকালে একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ (২২) নামে এক যুবকের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে হুজাইফার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চমেক হাসপাতালের আইসিইউর সামনে কান্নায় ভেঙে পড়া হুজাইফার চাচা শওকত আলী জানান, রোববার রাতে মাথায় অস্ত্রোপচার করা হলেও স্পর্শকাতর স্থানে থাকায় গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ও চাপ কমাতে চিকিৎসকরা হুজাইফার মাথার খুলির একটি অংশ আলাদা করে ফ্রিজে রেখেছেন। চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়।
হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং সীমান্তের হউসের দ্বীপ এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লম্বাবিল এলাকার ফজল করিমের ছেলে হানিফ নিজের চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে গেলে বাঁধের নিচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে তার ডান পা গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাঁ পা গুরুতর জখম হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের দাবি, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হউসের দ্বীপে অবস্থান নিয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার সময় তারা যত্রতত্র মাইন পুঁতে রেখে গেছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষের জেরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এপারে ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হচ্ছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সীমান্তে নিরাপত্তার দাবিতে সোমবার স্থানীয়রা টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জনসাধারণের চলাচল সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রমাগত গোলাগুলি ও মাইন বিস্ফোরণে সীমান্ত সংলগ্ন জনপদে এখন গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।