ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়া ফেলানীর পিতা নুর ইসলাম বলেছেন, ফেলানী হত্যার ১৫ বছরেও আমরা বিচার পাইনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা এই বিচার নিয়ে টালবাহানা করেছে। সে এই বিচার করতে দেয়নি। এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা যাতে আর কোনদিন বাংলাদেশে জায়গা না পায়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত 'সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক হত্যার ১৫ বছর: আধিপত্যবাদবিরোধী কবিতা ও গান' পাঠ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেলানীর পিতা বলেন, ‘আমি চাই যে সরকার আসবে ক্ষমতায় তারা যেন ফেলানী হত্যার বিচার করে। সীমান্তে শুধু ফেলানী না, যাদেরকেই হত্যা করা হয়েছে তাদের সবার হত্যার বিচার চাই।’
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, 'ফেলানীকে কাটাতারে ঝুলিয়ে রাখা পুরো বাংলাদেশকে ঝুলিয়ে রাখার নামান্তর। ভারতীয় আধিপত্যবাদের মূল লক্ষ্য ছিলো আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক অধিকার গুলোকে দমন করার মাধ্যমে নিজস্ব নীতি চাপিয়ে দিয়ে কৌশলগত স্বার্থ হাসিল করা।'
তিনি বলেন, ’ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক প্রভু সুলভ হবে না, হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। যারা আধিপত্য কায়েম করতে চায় তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।’
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘গুজরাটের কসাই মোদির পরোক্ষ মদদে খুনি বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে ফেলানীকে হত্যাকাণ্ড পরবর্তী ভারতীয় হাইকমিশন কে তলব করে বিচার চাওয়া। নির্বাচন পরবর্তী যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন তাদেরকে ভারতীয় সীমান্তে যে হত্যাকাণ্ড গুলো ঘটেছে তার যথাযথ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ’আসন্ন নির্বাচনে যাদের ইশতেহারে সুষম পানি বন্টনের নীতি থাকবে না, ফারাক্কা বাঁধ ভাঙার দাবি থাকবে না,সীমান্ত হত্যা,সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তার নীতি থাকবে না তাদেরকে আপনারা ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবেন।’
এছাড়া, অনুষ্ঠানে আধিপত্যবাদ বিরোধী বিভিন্ন গান ও কবিতা আবৃত্তি করেন খ্যাতিমান শিল্পীরা।