Image description

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় অপহরণের ছয় ঘণ্টার মধ্যেই এক কলেজছাত্রকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। উদ্ধার অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রের নাম মাহিদ হোসেন (১৭)। তিনি মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের চাকরিজীবী আমির উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাহিদ হোসেন তার দুই বন্ধু রিয়াদ ও জুনায়েদকে সঙ্গে নিয়ে মুজিবনগর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কোমরপুর এলাকার একটি ইটভাটার কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাত কয়েকজন দুষ্কৃতকারী তাদের পথরোধ করে তিনজনকে অপহরণ করে পাশের একটি মাঠে নিয়ে যায়। পরে রিয়াদ ও জুনায়েদকে ছেড়ে দিলেও মাহিদকে অপহরণকারীরা সঙ্গে নিয়ে যায়।

অপহরণের পর মাহিদের পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষয়টি জানার পরপরই মেহেরপুর জেলা পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়ের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খানের নেতৃত্বে মুজিবনগর থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের একাধিক ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী জানান, অপহৃত মাহিদের মামার মোবাইল ফোনে অপহরণকারীদের সঙ্গে মুক্তিপণ নিয়ে যোগাযোগ চলছিল। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে টেংরামারী গ্রামের একটি মাঠে মুক্তিপণের টাকা দিতে গেলে কৌশলে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয়।

এক পর্যায়ে লাইটের আলোতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর চোখ ও হাতবাঁধা অবস্থায় মাহিদ হোসেনকে ফেলে রেখে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় কালবেলাকে বলেন, বর্তমানে উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্র মাহিদ হোসেন জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।