প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে নিজ হাতে স্বাক্ষর করেই রিপোর্ট দিতে হবে।
গতকাল সোমবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তাকে অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিক্যাল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে।
আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। অন্য কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটোজেনারেটেড রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না।
রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিক্যাল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে।
ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক।
একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করার কথাও নির্দেশনায় বলা হয়।
অধিদফতর বলছে, এভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। এসব নিয়মাবলী বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবার মান বাড়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে।
সমেয়র আলো