আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটে ৭২৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের মধ্যে থেকে মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল আবেদনের প্রথম দিনে ৪১ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এ ছাড়া একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বৈধ মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। আগামী ৯ই জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসব আবেদন জমা পড়ে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আপিল আবেদনের প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকা অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক আপিল জমা পড়েছে। ঢাকা থেকে আসা আবেদনের সংখ্যা ১৫টি। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুর অঞ্চল, যেখান থেকে মোট ৬টি আবেদন জমা পড়েছে।
রাজশাহী ও কুমিল্লা অঞ্চল থেকে ৫টি করে আবেদন জমা পড়েছে। তবে কুমিল্লার ক্ষেত্রে একটি বিশেষত্ব হলো, সেখানে গ্রহণের বিপরীতে ১টি আপিল জমা পড়েছে।
খুলনা থেকে ৬টি এবং ফরিদপুর থেকে ৭টি আবেদন জমা পড়েছে। ময়মনসিংহ ও বরিশাল অঞ্চল থেকে ১টি করে আবেদন জমা পড়েছে। আর বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে জমা পড়েছে ২টি আবেদন। একমাত্র সিলেট অঞ্চল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আপিল আবেদন জমা পড়েনি।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনই করা হয়েছে কোনো সিদ্ধান্তের ‘বাতিলের বিরুদ্ধে’। মোট ৪২টি আবেদনের মধ্যে ৪১টি আবেদনই বাতিলের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোনো সিদ্ধান্ত ‘গ্রহণের বিরুদ্ধে’ আপিল এসেছে মাত্র ১টি (কুমিল্লা অঞ্চল থেকে)।
ভোটের পরিবেশ সন্তোষজনক- সিইসি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় তিনি আপিলের বুথ পরিদর্শন করে এ কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সবার সহযোগিতা থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ একটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে উপহার দেয়া সম্ভব। বর্তমানে নির্বাচন পরিবেশ-পরিস্থিতি সন্তোষজনক আছে বলেও জানান তিনি।
যা বললেন সচিব: আপিলের প্রথম দিনে বৈধ ও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের নিয়ে কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা অঞ্চলভিত্তিক আপত্তি দাখিল করার জন্য আমরা ব্যবস্থা করেছি। যারা বৈধ ঘোষিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অথবা যাদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, উভয়ের ক্ষেত্রেই আপিল করার সুযোগ আছে, এখানে এই আপিলের ব্যবস্থাটা আগামী ৯ই জানুয়ারি পর্যন্ত চালু থাকবে।
তিনি বলেন, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা কমিশনে শুনানির ব্যবস্থা করবো। আমাদের অডিটোরিয়ামে শুনানি ব্যবস্থাটা হবে। আর দেখেন আপনারাও (গণমাধ্যম) তো আছেন। আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করেন। আমরাও আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি। প্রার্থীরা হলফনামা দিয়েছেন হলফনামা আপনারা যাচাই-বাছাই করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এটা তো পরের ব্যাপার। আজকে হচ্ছে আপিল নেয়ার কথা। হলফনামা যেটা দিয়েছেন সেটা তো প্রসেস অনুযায়ী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। এখন সেই তথ্যের ওপরে যদি কারও কোনো আপত্তি থেকে থাকে তাহলে তো আপিল করবেন।
আখতার আহমেদ বলেন, ১ শতাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটার এবং তার যাচাই-বাছাইটাও হোক বা যেটাই হোক না কেন একেকজনের ক্ষেত্রে একেকটা কারণ হবে। কোনো একটা নির্দিষ্ট কারণকে তো ব্যাখ্যা করা সম্ভব না বা আমরা বলে দিচ্ছি না যে রেস্ট্রিক্ট করছি না যে এর বাইরে আমরা আপিল নেবো না আপিল করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো বিষয়ে আপিল করতে পারেন। আমরা কাগজটা নেবো, পরে পরীক্ষান্তর সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। অনেক প্রার্থী অভিযোগ করে গেছেন তারা মারধরের শিকার হয়েছে, ১ শতাংশ ভোট নিতে গিয়ে উনারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার কানে এটা আসেনি, আপনারা আমাকে বললেন, যদি এরকম অসঙ্গতি হয়ে থাকে তাহলে তো রিটার্নিং অফিসার এটা দেখবেন। এটা তো রিটার্নিং অফিসারের কাছেই। এরপরেও যদি সেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এখানে আপিল করেন, তাহলে আপিলে নিশ্চয়ই সেটাও শুনানি নেয়া হবে। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন মানুষ সংক্ষুব্ধ হতে পারে। সে সংক্ষুব্ধের কারণটা তো ওনারা এখানে উল্লেখ করেই আপিল করবেন। সেটা পর্যালোচনা করা হবে যথাসময়ে।
উল্লেখ্য, গত ১১ই ডিসেম্বর ইসি’র ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৫ থেকে ৯ই জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০শে জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১শে জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২শে জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ই ফেব্রুয়ারি।