ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিচার একটি সংবেদনশীল ও আইননির্ভর বিষয় হওয়ায় এতে তাড়াহুড়া করার সুযোগ নেই, তবে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আমাকে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।”
তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্টরা সীমান্ত পেরিয়ে থাকতে পারে। “যদি আমরা তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারত সরকারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। এই মামলার অগ্রগতি কতদূর নেওয়া যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।”
বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিচারের জন্য কখনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া যায় না। এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। তবে ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ। এটি পুলিশের দায়িত্ব এবং পুলিশই সে কাজ সম্পন্ন করবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার চায় যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকারের ওপর কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ নেই। “আমাদের লক্ষ্যই হলো দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। সরকার চায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে।”
তিনি বলেন, “সময় খুবই সীমিত—মাত্র ছয় সপ্তাহ। তাই এখানে বাইরের কোনো চাপের প্রশ্ন নেই। সরকার নিজের দায়িত্ব থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশ আমাদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রাখবে, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত; আমাদের লক্ষ্য হলো দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পন্ন করা।”
এর আগে বেলা ১১টার দিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি উত্তর ইসলামপুর এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষনিউজ