যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে সেটা আগ্রাসন। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করলে সেটাতে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয় না! কারণ জঙ্গলের নেকড়ের জন্য কোনো আইন নেই।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে মির্জা গালিব লেখেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পেইনের একটা বড় পয়েন্ট ছিল আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি। এর মানে হলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কাজে আমেরিকার কন্ট্রিবিউশনের চেয়ে আমেরিকার ভেতরে তার ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই নীতির আলোকে ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশান ন্যাটোর পেছনে খরচ কমাতে চাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধে আমেরিকার অর্থ সাহায্য কমাতে চাচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বরাদ্দ কমাতে চাচ্ছে।
তিনি লেখেন, অনেকেই ভেবেছিলেন ট্রাম্পের আমেরিকা যাই করুক, দুনিয়াতে যুদ্ধ হয়ত কিছুটা কমাবে। কিন্তু ভেনেজুয়েলার তেলের হিসেবটা ভিন্ন। ভেনেজুয়েলাতে যেহেতু দুনিয়ার সবচেয়ে বড় তেলের মজুদ আছে, কাজেই এটাও আমেরিকা ফার্স্ট পলিসির মধ্যেই পড়ে!
তিনি আরও লেখেন, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে সেটা আগ্রাসন। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমেরিকা ভেনেজুয়েলা আক্রমণ করলে সেটাতে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয় না! কারণ জঙ্গলের নেকড়ের জন্য কোনো আইন নেই। নেকড়েটা নিজেই নিজের আইন। কলোনিয়াল লিগাসির মধ্য দিয়ে বড় হয়ে ওঠা ইউরোপীয় আর আমেরিকান সভ্যতার সব ভাল ভালো কথার মুখোশ এই নির্লজ্জ ডাকাতির মধ্য দিয়ে পুরোটাই উন্মোচিত হয়ে যায়।