Image description

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছে সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার কর্মীবাহিনী। পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ভৈরব থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের চলমান বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২ এর অংশ হিসেবে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে ভৈরব পৌর এলাকার ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার গাছতলাঘাট মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

পুলিশের অভিযান চলাকালে ভৈরব পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী সোহাগকে আটক করা হয়। আটককৃত কাউন্সিলরকে থানায় নেওয়ার আগেই তার সমর্থক ও স্থানীয় কর্মীবাহিনী সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটকৃত কাউন্সিলরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

গাছতলা ঘাট এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলরের বাহিনীর কর্মীরা পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ করে এবং একপর্যায়ে পুলিশের হেফাজত থেকে জোরপূর্বক আটককৃত সোহাগকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের ওপর সঙ্ঘবদ্ধ দলের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এ ঘটনায় ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর হামলা এবং আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পর ভৈরবে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।