২০২৬ সালের নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই হাতে পেয়েছে। তবে মাধ্যমিকের সব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের না দিলেও অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করেছে সরকারের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কবে নাগাদ সবাই এসব নতুন পাঠ্যবই পাবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। পাঠ্যবই ছাড়া এসব শিক্ষার্থী কীভাবে ক্লাস করবে বুঝতে পারছে না। ফলে নতুন পাঠ্যবই না পাওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেছে তাদের মাঝে।
এবারের নতুন পাঠ্যবইয়ে দেখা যায়, মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ পাঠ্যবই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ‘সাহিত্য কণিকা’ পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ হিসেবে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম হিসেবে গদ্যাংশে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এবারের নতুন পাঠ্যবইয়ে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে মোট ১২টি গদ্যের মধ্যে এবার ১১টি গদ্যের স্থান হয়েছে।
অন্যদিকে আগে থেকে স্থান পাওয়া গদ্যের মধ্যে রয়েছে-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অতিথির স্মৃতি, কাজী নজরুল ইসলামের ভাব ও কাজ, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পড়ে পাওয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈলচিত্রের ভূত, মোতাহের হোসেন চৌধুরীর লাইব্রেরি, মমতাজউদদীন আহমদের সুখী মানুষ, মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পকলার নানা দিক, বিপ্রদাশ বড়ুয়ার মংডুর পথে, শামসুজ্জামান খানের বাংলা নববর্ষ, হুমায়ুন আজাদের বাংলা ভাষার জন্মকথা এবং গণঅভ্যুত্থানের কথা সংকলিত হিসেবে স্থান হয়েছে।
তাছাড়া, অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ পাঠ্যবইয়ের কবিতাংশে আগের মতো এবারও ১৩টি কবিতার স্থান হয়েছে।
জানা গেছে, মাধ্যমিকের অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ পাঠ্যবইয়ে অন্যান্যবার গদ্যাংশে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ হিসেবে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম অংশটুকু গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হতো। পাঠ্যবইটির ৩১ থেকে ৩৬ পৃষ্ঠাজুড়ে ৭ মার্চের অবদান তুলে ধরে পুরো তার ভাষণটি তুলে দেওয়া হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ব্যাপক বদল এসেছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার অষ্টম শ্রেণির ‘সাহিত্য কণিকা’ পাঠ্যবই থেকে বাদ গেল শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ।
এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পাঠ্যবইয়ে নানা সংশোধন এসেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিব নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য বাদ দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লিখিতভাবে চিঠি দেয় সরকারের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা এই সংস্থাটিকে। এরপর এনসিটিবি এই সংশোধনের উদ্যোগ নেয়।