Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ অবহেলা ও নির্যাতনের মাধ্যমেই তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার দায় শেখ হাসিনার।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের শান্তি ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ ভ্রমণ

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা যদি ঘরেও বসে থাকতেন, তবুও আমরা একটা সাহস পেতাম। বিশেষ করে হাসিনার সেই নৃশংস দুর্বিপাক, সেই ভীতিকর ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে যখন আমরা জোরালো কথা বলার চেষ্টা করছি, যখন আমরা মিছিল করার চেষ্টা করছি, যখন আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে উচ্চারণ ধরার চেষ্টা করছি তখন এসব প্রচেষ্টার একমাত্র প্রেরণার উৎস ছিলেন বেগম জিয়া।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বিরাট এক আশ্রয়ের মতো। আমরা জানতাম, আমাদের জন্য একটি বিশাল ছাতার মতো আশ্রয় আছে বেগম জিয়া আছেন। ঠিক যেমন একটি পরিবারে মা বেঁচে থাকলে, শুধু তার উপস্থিতিই সন্তানদের সাহস জোগায়। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সারা জাতির জন্য ঠিক তেমনই এক আশ্রয়স্থল।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশনেত্রী কখনো হুমকির মুখে দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি সত্যিকার অর্থে গোটা জাতির মা। সারা জাতির অভিধানে তিনি সেই জায়গাটি দখল করেছিলেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, এটি আবেগপ্রসূত বক্তব্য নয়। শুধু আজ তিনি মারা গেছেন বলেই এসব বলা হচ্ছে তা নয়। এটি একটি বাস্তব সত্য। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অসংখ্য বক্তব্য ছড়িয়ে আছে, যেখানে তিনি বারবার বলেছেন এই দেশ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, উপজাতি সবার।

রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একইসাথে ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক। প্রকৃত অর্থে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনোই সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। তিনি ছিলেন আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক এবং মানবিক একজন জাতীয় নেতা, যার আশ্রয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ নিরাপত্তা ও ভরসা পেত।’

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, ‘একজন নারী মানুষ সুস্থ অবস্থায় জেলখানায় প্রবেশ করলেন, আর সেখান থেকে ফিরে এলেন লাশের মতো হয়ে। জেলখানার ভেতরে তার ওষুধ, খাবার সবকিছুতেই অবহেলা ও নির্যাতন করা হয়েছে। এটি ছিল পরিকল্পিত। তাই আমি বলি, এটি শেখ হাসিনার হাতে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড।’

তিনি আরো বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারাই এই কাজটি করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চক্রান্ত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’

বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন সজ্জন ও স্বল্পভাষী মানুষ। অনেক রাজনীতিবিদ তার বিরুদ্ধে কটুক্তি করলেও তিনি কখনো অশালীন ভাষায় জবাব দেননি। তার সাংস্কৃতিক উচ্চতা ছিল অনন্য।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করে গেছেন সততা, নিষ্ঠা ও অঙ্গীকারই প্রকৃত রাজনীতি। রাজনীতি মানে গালাগালি নয়, রাজনীতি মানে জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা।’

রিজভী বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি শিক্ষণীয় অধ্যায়। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রজন্ম ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখবে একজন নেতা (বেগম জিয়া) ছিলেন, যিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেননি, যা বলেছেন সেটাই করার চেষ্টা করেছেন।’বাংলাদেশ ভ্রমণ

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অপর্না রায় সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, দেবাশীষ রায় মধু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ডা: তৌহিদুর রহমান আউয়াল, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, যুবদলের মেহেবুব মাসুম শান্ত প্রমুখ।